শাহরিয়া আনাস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক হওয়ার আগে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন শাহরিয়া আনাস (১৭)। অপ্রতিমের মৃত্যুর খবরসংবলিত ফটোকার্ড শেয়ার করে দেওয়া ওই পোস্টে তার সঙ্গে পরিচয় ও বিভিন্ন সময়ের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আনাস।
অপ্রতিমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন আনাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।
পোস্টে অপ্রতিমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিচারণও করেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলত, ভাই কই আছো, ছবি তুলব কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।
ওই পোস্ট দেওয়ার পরই শাহরিয়া আনাসকে কুমিল্লার বেলতলি এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে বলে জানা গেছে। তবে তাকে আটকের কারণ ও হত্যাকাণ্ডে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শাহরিয়া আনাসসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ, ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
