রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় আশ্বাস যেন কাগজে বন্দী প্রতিশ্রুতি—বাস্তবের রাস্তায় তার প্রতিধ্বনি নেই। সংসদের গম্ভীর অঙ্গনে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে এমনই অভিযোগ তুললেন স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা। তার কথায়, প্রতিশ্রুতির আলো যতবার জ্বলে উঠেছে, ততবারই বাস্তবের অন্ধকারে জন্ম নিয়েছে নতুন নতুন “মবের সংস্কৃতি”।
আজ সোমবার বিকেল তিনটায়, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১-বিধির বাতিল নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি যেন এক অস্থির সময়ের আয়না তুলে ধরেন।
রুমিনের কণ্ঠে তখন ক্ষোভ, হতাশা আর এক অদৃশ্য বেদনার মিশেল— আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন—এই দেশে আর মব হবে না, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থাকবে না। কিন্তু বাস্তব? একটির পর একটি মব—অবিরাম, নির্দয়, অপ্রতিরোধ্য!
তার ভাষণে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র—
দেশ যেন ধীরে ধীরে গড়ে তুলছে এক নতুন ‘সংস্কৃতি’, যেখানে গান-নাচ নয়, বরং উত্তেজিত জনতার বিচারই হয়ে উঠছে চূড়ান্ত রায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে বাসস প্রধান, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সুপ্রিম কোর্ট—এমনকি গণমাধ্যম অফিস পর্যন্ত, কোথাও যেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই।
চট্টগ্রামের রাস্তায় ‘ছিনতাইকারী সন্দেহে’ এক প্রাণহানি, কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের নির্মম মৃত্যু—এই সব ঘটনাকে তিনি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেন।
তার কথায়, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই ক্ষোভ জমে ওঠে। সেই ক্ষোভ একসময় বিস্ফোরিত হয় মবের রূপে। এই দেশে হতাশা আছে, বৈষম্য আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় যে অভাব—তা হলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—দেড় বছর আগের চট্টগ্রামের সেই হত্যাকাণ্ড, যার বিচার আজও অমীমাংসিত। আর সেই অপূর্ণ বিচারই যেন নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে, বারবার।
সবশেষে তার কণ্ঠে ছিল এক নীরব প্রশ্ন— আশ্বাস কি শুধু শব্দেই থাকবে, নাকি একদিন বাস্তবেও ফিরবে ন্যায়বিচারের সুবাতাস?
