৬০ কিলোমিটার গভীর সাগরে দুর্ঘটনা; উত্তাল ঢেউ আর বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাহত উদ্ধার অভিযান। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
উত্তাল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। নিখোঁজরা হলেন তালতলী উপজেলার বড় আমখোলা এলাকার কালাম ও শহিদ। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৩টার দিকে তালতলী উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের গভীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরগুনার তালতলীর ফকিরহাট এলাকার এফ বি মহিমা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৩ জন জেলেকে নিয়ে সাগরে যায়। মাছ ধরার একপর্যায়ে হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে জেলেরা সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। পরে পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেরা ভাসমান অবস্থায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
ট্রলারটির মালিক তপন জোমাদ্দার জানান, মঙ্গলবার ভোরে জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যান। বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। পাশের ট্রলারের সহায়তায় ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ট্রলারসহ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কালাম ও শহিদ।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে তালতলী ও পাথরঘাটা কোস্টগার্ডের পাশাপাশি ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে চারটি ট্রলার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ দুই জেলের বিষয়ে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করছে।
নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগর অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
