ঘটনাস্থলে জনি নন্দী (ছবি-সংগৃহীত)
রাজধানীর মোহাম্মদপুর যেন হঠাৎই রূপ নেয় উত্তেজনার অগ্নিগর্ভ মঞ্চে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান-কে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ, আর সেই ক্ষোভই গড়িয়ে যায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে।
শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে জড়ো হয় একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৈরি হয় এক নাটকীয় দৃশ্যপট—যেন রাজনৈতিক আবেগ আর ক্ষোভের এক অদৃশ্য সংঘর্ষ।
এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন মোড় নেয় ঘটনা। জাগপার যুব সংগঠনের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জনি নন্দী-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশেদ প্রধান নিজেই।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বিক্ষোভ শেষে ফেরার সময় এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জনি নন্দী হঠাৎ ছুটে এসে উসকানিমূলক আচরণ করলে তাকে থানায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতা রাশেদ প্রধানের বাসা লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করছে, দিচ্ছে তীব্র স্লোগান। ঘটনার একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ইব্রাহিম নামে
এক তরুণের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করলে রক্তাক্ত হন তিনি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে—পাল্টা হামলায় আহত হন জনি নন্দীও। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে নিয়ে কটূক্তি করেন রাশেদ প্রধান। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা, এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রাজনীতির উত্তাপ যখন আবেগকে ছাপিয়ে যায়, তখন এমন ঘটনাই যেন বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে—যেখানে বাক্য হয়ে ওঠে আগুন, আর প্রতিক্রিয়া হয়ে যায় বিস্ফোরণ।
