রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কলাপাড়ায় রাতের আঁধারে বিভীষিকা ঘরের সিধ কেটে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
মে ২৩, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিস্তব্ধ গভীর রাত। চারদিকে থমথমে নীরবতা। সেই সুযোগে ঘরের টিনের চালার নিচে সিধ কেটে ভেতরে ঢুকে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। তবে সাহসী ওই ছাত্রীর চিৎকারেই ভেস্তে যায় ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ মে) পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কলাপাড়া উপজেলার মোঃ রাব্বি খান (৩২), মোঃ রুবেল মৃধা (৪০) ও মোঃ ইমন হাওলাদার (৩৫)।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী রাব্বি খান কলেজে যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হয়েও থামেনি সে।

ঘটনার রাতে, গত ১৬ মে গভীর রাতে মেয়েটির মা ও ভাই মাছ ধরতে নদীতে গেলে সে ঘরে একাই ছিল। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্তরা ঘরের টিনের চালার নিচে সিধ কেটে নিঃশব্দে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘুমন্ত কলেজছাত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।

একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ওই ছাত্রী। ধস্তাধস্তির মধ্যেই তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায় তিন দুর্বৃত্ত। তবে ঘরের আলোতেই মূল আসামি রাব্বি খানকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পরদিন ১৬ মে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৫ দায়েরের পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিল। পরে কলাপাড়া থানা পুলিশ স্থানীয় অভিযান চালিয়ে রুবেল মৃধা ও ইমন হাওলাদারকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বনানী থানা এলাকা থেকে মূল আসামি রাব্বি খানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রাব্বি খান ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত কাঁচি, বটি, লাঠি ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।