সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাগজে-কলমে পরিদর্শন, বাস্তবে নেই, ডিপিএইচইর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

মামুনুর রশীদ মামুন
জুলাই ১৩, ২০২৬ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

ময়মনসিংহে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর ময়মনসিংহ সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী কাজী আমান উল্লাহকে ঘিরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি গাড়ির নিয়মবহির্ভূত ব্যবহার, প্রকল্প পরিদর্শনের নামে ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) বিল উত্তোলন, নিম্নমানের কাজকে ‘পজিটিভ রিপোর্ট’ দিয়ে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ এবং দাপ্তরিক সময়ের প্রতি চরম অবহেলার মতো নানা অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং আর্থিক সুবিধা আদায়েই বেশি মনোযোগী এই কর্মকর্তা। এতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি, সরকারি গাড়ি ব্যবহারে প্রশ্ন

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী দাপ্তরিক কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী কাজী আমান উল্লাহ নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসে দেরিতে আসা এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা উপেক্ষা করা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলীর জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও তিনি নিয়মিত সেই গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দাপ্তরিক সভা, পরিদর্শন কিংবা অফিসিয়াল কাজের অজুহাতে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি এই সুবিধা ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রওশন আলম বলেন, গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি আমার অনুপস্থিতিতে বা আমার অনুমতিক্রমে তিনি করে থাকেন।

তবে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা গ্রহণ কিংবা দাপ্তরিক সময়ের অনিয়ম নিয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

কাগজে পরিদর্শন, বাস্তবে অনুপস্থিত—ভুয়া টিএ বিলের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের নামে কাগজে-কলমে সফর দেখিয়ে টিএ বিল উত্তোলন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের অনেক প্রকল্পে তিনি বাস্তবে উপস্থিত না হলেও সরকারি নথিতে নিয়মিত পরিদর্শনের তথ্য দেখিয়ে ভ্রমণ ভাতা গ্রহণ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বাস্তব চিত্র যাচাই না করেই কাগজে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। ফলে নিম্নমানের নির্মাণকাজও সহজেই অনুমোদন পাচ্ছে এবং ঠিকাদাররা দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

‘পজিটিভ রিপোর্ট’-এর বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী না হলেও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ঠিকাদারদের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এর ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা গোপন রেখে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রদান শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

অতীত কর্মস্থলেও ছিল অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, কেন্দুয়া ও দুর্গাপুরে দায়িত্ব পালনকালেও কাজী আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দাপ্তরিক অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

ফলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মপরিবেশ সুষ্ঠু রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার, তদন্তের কথা বললেন কর্তৃপক্ষ

এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী কাজী আমান উল্লাহর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অভিযোগের জবাব না দিয়ে বলেন, আপনারা অফিসিয়াল কাগজপত্রগুলো দেখুন অথবা সরাসরি অফিসে এসে সামনা-সামনি কথা বলুন।

তবে প্রকল্প পরিদর্শন না করেই পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়া এবং ভুয়া টিএ বিল উত্তোলনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রওশন আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যদি সুনির্দিষ্ট আকারে আমাকে অবগত করা হয়, তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

সচেতন মহলের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে এতসব অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে এসব অনিয়ম চলতে থাকল? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারির মধ্যেও যদি এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসে, তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ অডিট, প্রকল্পভিত্তিক নথি যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, উপরের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।