প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছবির সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানজুড়ে এক দফা অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
দুই পক্ষের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এটি সবশেষ বড় ধরনের আঘাত। বুধবার আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের বন্দর সালমান, পঞ্চম নৌ জেলা এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বাধা দেওয়ার সময় ভূপাতিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন।
হামলার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তবে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে ইরানজুড়ে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের তেল বিক্রির একটি বিশেষ লাইসেন্স বা অনুমতিও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের অভিযানে আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট স্পিডবোটসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরানকে কড়া জবাব দিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা চালানো জরুরি ছিল। ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোরালো জবাব দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় তেহরান কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।
