মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একটি মামলার মূল নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে কুষ্টিয়ার আদালতের একটি আদেশে। নথি না পাওয়ায় মামলার কার্যক্রম নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
আদালতের আদেশের কপি অনুযায়ী, মামলাটি কুষ্টিয়া জিআর মামলা নং ৩০৯/১৫। মামলার সঙ্গে কুষ্টিয়া থানার মামলা নং ২২-এর উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১), টেবিল ৩(খ), ৯(ক)/১৯(৪) ধারায় দায়ের করা হয়। মামলায় মোট আসামি ৩ জন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার মূল নথি পাওয়া যায়নি। এতে আসামি হিসেবে মোছা. কামিনী বেগম, মোছা. রহিমা খাতুন এবং মো. আজাদ-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। আদেশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি রহিমা খাতুন জামিনে আছেন এবং আরেক আসামি মো. আজাদকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও নথিতে রয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
কিন্তু মামলার মূল নথি পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আদালতের সামনে আসে। এ অবস্থায় মামলাটি বিচারের জন্য কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেন আদালত।
আদেশের শেষাংশে মামলাটি দায়রা মামলা হিসেবে নিবন্ধন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে গ্রহণ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আসামিদের উপস্থিতির তারিখ নির্ধারণের নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—একটি মাদক মামলায় তিন আসামি, অভিযোগপত্র ও আদালতের কার্যক্রমের তথ্য থাকলেও মূল নথি খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি আদালতের আদেশেই উঠে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিনের এই মামলার নথি কোথায় গেল, কীভাবে হারাল এবং এর কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আদেশের কপিতে মামলার তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১৫ উল্লেখ রয়েছে এবং আদেশে স্বাক্ষর রয়েছে দায়রা জজ, কুষ্টিয়া-এর।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে আদালতের সরবরাহ করা আদেশের কপিতে দৃশ্যমান তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। নথি হারানোর কারণ বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণের মতো তথ্য আদেশের কপিতে না থাকায় সেগুলোকে অভিযোগ বা প্রশ্ন হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
