রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া বিরোধের জেরে রক্তাক্ত হামলা! ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
জুলাই ১১, ২০২৬ ২:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মো. লালন ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার সময় তার কাছে থাকা নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা থানার বাহাদুরপুর বাজারে লালন ইসলামের সার ও কীটনাশকের দোকানের সামনের সড়কে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় আহতের ভাই মো. মোয়াল্লেম হোসেন (মিঠন) বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

বাদী মিঠনের দাবি, বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, বিয়ের আগ থেকেই তার স্ত্রীর অন্য এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে স্ত্রী সংসার করতে অনীহা প্রকাশ করে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং আর ফিরে আসবেন না বলে জানিয়ে দেন।

মিঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা চললেও ওই দাবির বিরোধিতা করে আসছিলেন তার মেজ ভাই লালন ইসলাম। স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘একা পেয়ে চালানো হয় অতর্কিত হামলা’

বাদী মিঠনের অভিযোগ, তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাহাদুরপুর বাজারে এসে প্রথমে তাকে ও তার বড় ভাইকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু তারা দোকানে না থাকায় একা থাকা লালন ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, আমার ভাই অন্যায় দাবির বিরোধিতা করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। আমাকে না পেয়ে আমার মেজ ভাইকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যবসায়ী

হামলার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় লালন ইসলামকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

ভেড়ামারা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, এ ঘটনায় পরকীয়া, পারিবারিক বিরোধ, হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশের অনুসন্ধান ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে। এমনটাই ভাবছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।