ফাইল ছবি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ০৭ নং সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনগণ ও একাধিক জনপ্রতিনিধি।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের পতনের পর প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই বিলাসবহুল জীবনযাপন, বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ এবং অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন আসমা তারা। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যানের আসন কার্যত দখলে নেন। পরে নিজস্ব লোকজন ও কথিত বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, দখল ও মব সৃষ্টিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী দরিদ্র নারীদের সহায়তা, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখা, শীতবস্ত্র, দুর্যোগকালীন অর্থ সহায়তা, জন্ম-মৃত্যু সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশান সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, কৃষি প্রণোদনা, উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ, সংস্কার ও নির্মাণকাজের আবেদন এবং জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কখনো অর্থের বিনিময়ে, আবার কখনো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে সাহারবাটী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন ইউনিয়নের কয়েকজন কাউন্সিলর ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আসমা তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়নবাসীকে সেবা দিয়ে আসছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
তিনি নিজেকে মেহেরপুর জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা বলেও দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা মহিলা দলের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আসমা তারা জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে কখনো আসেনি।
অন্যদিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, আমার জানামতে তিনি মহিলা দলের কোনো পদে আছেন বলে জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপি সভাপতি আলহাজ জাভেদ মাসুদ মিল্টনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—মাত্র ১৮ মাসে কীভাবে গড়ে উঠল বিলাসবহুল অট্টালিকা ও বিপুল সম্পদের পাহাড়? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে আলোচনার টেবিলে? এ প্রশ্ন এখন সাহারবাটী ইউনিয়নের সর্বত্র।
