গাইবান্ধায় একই পদে দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। এতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতা ও ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, দ্রুত এ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সরকারি সেবা স্বাভাবিক করা হোক।
এলজিইডি অফিস ও ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ দিন ধরে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এলজিইডি গাইবান্ধা কার্যালয়ে এসে অনেক ঠিকাদার নির্বাহী প্রকৌশলীকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে বিল, প্রশাসনিক অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার ঠিকাদাররা।
অন্যদিকে, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নতুন কর্মকর্তার যোগদান সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা চিঠি তারা এখনো পাননি। তবে বাস্তবে দুই কর্মকর্তাকেই অফিস করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে অফিসের ভেতরেও মিলছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। কেউ বলছেন, আগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়মিত অফিসে আসেন না। আবার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার দাবি, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রশাসনিক বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আবদুল আজিজ যোগদান করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এর আগে দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল ইসলাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ঠিকাদার বলেন, অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। তারা আরও জানান, আগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কর্মস্থলে বহাল থাকার জন্য তদবির করছেন বলে শুনেছেন। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি করে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার নিজাম উদ্দিন ও অফিস সহকারী নাছিমা আক্তার বলেন, সকাল ৯টা থেকে অফিস শুরু হলেও প্রায়ই দুই কর্মকর্তাকেই অফিসে পাওয়া যায় না। এর বেশি কিছু জানেন না বলেও জানান তারা।
এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সরকারি চিঠি পাননি। তবে নতুন কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানেন।
নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগে এখানে যোগদান করেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে পাইনি।
অপরদিকে, বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বদলির আদেশ ১৫ জুলাই হয়েছে এবং ১৬ জুলাই ই-মেইলে পেয়েছি। এখানে আমার মাত্র আট মাস হয়েছে। সাধারণত ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে বদলি হয়। হঠাৎ বদলির কারণে মেয়ের পড়াশোনা, পারিবারিক বিষয় এবং অফিসের দাপ্তরিক নথিপত্র বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় লাগছে। এজন্য এখনো নতুন কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একই পদে দুই কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দ্রুত এ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে সেবাগ্রহীতা ও ঠিকাদারদের ভোগান্তি কমবে এবং এলজিইডির কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
