সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন ‘খেয়ালখুশির বন্দি’ সিইওর দোহাই দিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ, উঠছে বড় আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন

গাজীপুর প্রতিনিধি
জুন ১৫, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে (গাসিক) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ কার্যত ‘ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার আইন’-এ পরিণত হয়েছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। নাগরিকের তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার উপেক্ষা করে নগর ভবনের ব্যাংক ব্যালেন্স, অবশিষ্ট তহবিল এবং ঠিকাদারদের বিল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ‘ফরম-ক’-এ একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন এক গণমাধ্যমকর্মী। আবেদনটি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয় এবং এর দাপ্তরিক ডেসপাস নম্বর দেওয়া হয় ৭২৭।

আবেদনে মূলত ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক হিসাব, অবশিষ্ট তহবিল এবং ঠিকাদারদের বিল প্রদানের তথ্যসহ চারটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আবেদনটি গ্রহণের পর কয়েকদিন অপেক্ষার পর তথ্য কর্মকর্তা আবেদনকারীকে ডেকে নিয়ে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন, আপনি যে তথ্য চেয়েছেন, সেটি দেওয়া যাবে না। প্রশাসকও এসব তথ্য দিতে চান না।

শুধু তাই নয়, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে তিনি আরও বলেন, তথ্য চাইলে ফাইলটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, সেখান থেকে বিষয়টি বুঝে নিতে হবে।

আইন কী বলছে?

ধারা ৯(১) ও ৯(৩)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার পর নিজ দায়িত্বে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। কোনো তথ্য আইনগত কারণে দেওয়া সম্ভব না হলে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে।

কিন্তু এখানে কোনো লিখিত জবাব ছাড়াই কেবল মৌখিকভাবে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে, যা আইনের চেতনা ও বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দায়িত্ব এড়িয়ে সিইওর দোহাই : বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য কর্মকর্তা নিজেই যেখানে তথ্য সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সেখানে আবেদনকারীকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা বলা আইনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল এবং এটি এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ বলেও প্রতীয়মান হয়।

জরিমানার বিধানও রয়েছে-

তথ্য অধিকার আইনে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি, আবেদনকারীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা তথ্য গোপনের চেষ্টা করলে তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন ২৫০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জরিমানা এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারে।

তাহলে কী লুকানো হচ্ছে?

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, অবশিষ্ট তহবিল এবং ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল প্রদানের তথ্য কেন গোপন রাখা হচ্ছে এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আর্থিক লেনদেন এবং ঠিকাদারি বিলের তালিকায় এমন কী রয়েছে, যা প্রকাশ পেলে প্রশাসনের ভিত কেঁপে উঠতে পারে?

এই লুকোচুরির পেছনে কোনো বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, বিল বাণিজ্য কিংবা দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে কিনা, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য-

ভুক্তভোগী আবেদনকারী বলেন, আইন কোনো ব্যক্তি, সিইও বা প্রশাসকের খেয়ালখুশিতে চলতে পারে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের হিসাব জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। যেহেতু আইন উপেক্ষা করে মৌখিকভাবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তাই আমি তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল আবেদন দাখিল করব।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন-

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মতো বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানে খোদ তথ্য কর্মকর্তার এমন অবস্থান শুধু একটি আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনা নয়; এটি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর মূল দর্শন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এখন দেখার বিষয়, তথ্য কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি জনগণের অর্থের হিসাব ‘গোপন নথি’ হিসেবেই থেকে যায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ