বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুষের অভিযোগ তুলতে গিয়ে সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদের ঘটনাই ফাঁস

বিশেষ প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তারা ঘুষখোর’ বলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, বদলির নথিতে মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা; পরে সচিবের বক্তব্য—‘আসলে এটা দেখছি আমিই বদলি করেছি। ফাইল ছবি

নিজেকে বরাবরই একজন সৎ ও কঠোর প্রশাসক হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। অধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ক্ষমতাও কেন্দ্রীভূত করেছেন নিজের মন্ত্রণালয়ের হাতে। কিন্তু সেই ঘুষের অভিযোগ তুলতে গিয়েই এবার উল্টো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ গ্রহণের কোনো প্রমাণের দাবি এখানে করা হচ্ছে না। তবে তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বদলি-পদায়নের নথি ঘিরে এমন কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে, যার উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড: এসিল্যান্ড পদায়ন নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার, মাঠ প্রশাসনে চরম অসন্তোষ’ শিরোনামে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এবার একই মন্ত্রণালয়ের অধীন হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নকে কেন্দ্র করে আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে।

অভিযোগের সূত্রপাত, অধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের বদলি-পদায়ন, ছুটি ও পেনশনসংক্রান্ত ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া নিয়ে।

‘তারা ঘুষখোর’—এই অভিযোগেই কি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত?

হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে। প্রচলিত চার্টার বা প্রবিধানমালা এবং দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-পদায়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতেই থাকার কথা।

অতীতে সেই ব্যবস্থাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সালেহ আহমেদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে।

২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয়ের ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন, ছুটি ও পেনশনসংক্রান্ত ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল—বিভিন্ন সময়ে ১০ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি সিনিয়র সচিব/সচিবের কাছে বদলির আবেদন ও তদবির করেন। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই বদলি-পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এর আড়ালে আরেকটি কারণের কথাও বলেন সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ।

তাঁর অভিযোগ—হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘুষখোর। তাঁরা মাঠপর্যায়ের তহসিলদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেন এবং সেই অর্থ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারা হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাকি তিনি তাঁদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—অভিযোগ যদি এতটাই গুরুতর হয়, তাহলে তদন্ত কোথায়? ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ কোথায়? আর যে ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে, সেই ঘটনাতেই যদি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগটি কার বিরুদ্ধে?

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এক বদলি, আর সেখানেই গল্পে মোড়

সচিব সালেহ আহমেদের বক্তব্যে উঠে আসে চট্টগ্রামে কর্মরত এক সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রকের ঢাকায় বদলির ঘটনা।

সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমি সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা তাঁর কাছে ঢাকায় বদলির জন্য তদবির করেছিলেন। কিন্তু ঢাকায় পদ খালি না থাকায় তিনি সেই আবেদন নাকচ করে দেন।

এরপর এক অনুষ্ঠানে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানতে পারেন—ওই কর্মকর্তা এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে ঢাকায় চলে এসেছেন। এখানেই চমক।

এদিকে সচিবের দাবি ছিল, তিনি ওই কর্মকর্তাকে বদলি করেননি। বরং তাঁর অজান্তে হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করে এনেছেন।

অর্থাৎ, সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী—তাঁর সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে ঘুষের বিনিময়ে একজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় এনে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। তবে বদলির আদেশই বলছে অন্য কথা।

আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম এনামুল হক। তিনি বর্তমানে হিসাব নিয়ন্ত্রকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বদলি-পদায়নের আদেশ হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে জারি করা হয়নি। বরং ভূমি মন্ত্রণালয় থেকেই সরাসরি তাঁর বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। কারণ সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদে বদলি-পদায়নের ক্ষমতা আগে থেকেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করত।

কিন্তু এনামুল হকের ক্ষেত্রে সেই প্রস্তাব নেওয়া হয়নি বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

অর্থাৎ, যে বদলিকে প্রথমে সচিবের অজান্তে হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ‘ঘুষের বিনিময়ে করা বদলি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, সেই বদলির সিদ্ধান্তেই দেখা যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে—সচিবের অজান্তে বদলি হলে মন্ত্রণালয়ের নথিতে সেটি কীভাবে এলো?

আর যদি ঘুষের বিনিময়ে বদলি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ নিল কে?

‘আমি বদলি করিনি’—এরপর ‘আমিই বদলি করেছি’!

ঘটনার এখানেই সবচেয়ে বড় নাটকীয় মোড়।

বিষয়টি নিয়ে সচিব সালেহ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাঁকে জানানো হয়, যদি তাঁর অনুমতি ছাড়াই ওই কর্মকর্তার বদলি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

এমনকি বদলির সঙ্গে ঘুষের কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়।

কিন্তু প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার আলোচনা হলে তিনি বলেন, বদলি হওয়া কর্মকর্তার নাম তাঁর মনে নেই।

তাঁকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ফাইল তলব করলেই পুরো বিষয়টি সহজেই পরিষ্কার করা সম্ভব।

এরপর আসে আরও বিস্ময়কর বক্তব্য।

পরবর্তী এক আলোচনায় সচিব বলেন—

‘আসলে এটা দেখছি আমিই বদলি করেছি। আমার হাত দিয়ে কীভাবে, কখন বদলি হয়েছে, এটা আমিই জানি না। মন্ত্রণালয়ের এরা করিয়ে নিয়েছে। আমি বুঝে উঠতে পারিনি হয়তো।

এই বক্তব্য সামনে আসার পর প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

প্রথমে বলা হলো—তিনি বদলি করেননি।

পরে বলা হলো—হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে তাঁর অজান্তে বদলি করেছেন।

আর সবশেষে বলা হলো—‘আমিই বদলি করেছি।’

তাহলে প্রকৃত ঘটনা কোনটি?

তাহলে ঘুষের টাকা গেল কোথায়?

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন এটাই।

যদি সত্যিই ঘুষের বিনিময়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ওই কর্মকর্তার বদলি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ গ্রহণকারী কে?

সচিব নিজেই যখন প্রথমে দাবি করেছিলেন, হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে তাঁর অজান্তে বদলি করিয়েছেন, তখন বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার সুযোগ ছিল।

কিন্তু পরে যখন সংশ্লিষ্ট বদলির নথিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসে এবং সচিব নিজেই বলেন, ‘আমিই বদলি করেছি’, তখন প্রশ্নটি আরও গভীর হয়েছে।

কারণ, বদলির সিদ্ধান্ত যদি মন্ত্রণালয় থেকেই হয়ে থাকে, তাহলে শুধু অধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দিকে ঘুষের অভিযোগের আঙুল তোলার আগে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে কেন?

এ ঘটনার পাশাপাশি আরও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয়ের চার্টার অনুযায়ী ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের ক্ষমতা রয়েছে। সে অনুযায়ী বদলি-পদায়ন, ছুটি, পেনশনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজও ওই দপ্তর পরিচালনা করে আসছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির চিঠির মাধ্যমে এসব ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া হয়।

এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাজে নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

বিশেষ করে সারাদেশে কর্মরত কর্মকর্তাদের ছুটি, পেনশন কিংবা বদলি সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে আসতে হলে তাঁদের দপ্তরটির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বদলে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীভবন ঘটছে কি না—সেই প্রশ্নও উঠেছে।

অন্যদিকে, সরকারের নীতিতে যেখানে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হয়, সেখানে অধীন দপ্তরের ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

চার্টার বদলে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন সচিব

এ বিষয়ে সচিব সালেহ আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের কথা বলেন।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়—বিদ্যমান চার্টার বা প্রবিধানমালার সঙ্গে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য কোথায়?

জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে চার্টার পরিবর্তন করা হবে।

তবে পরবর্তীতে সেই চার্টার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা বিদ্যমান বিধি-বিধানের কোন ধারার ভিত্তিতে ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়।

৩১ আগস্টও প্রশ্ন, নেই সন্তোষজনক উত্তর

ঘটনাটির বিষয়ে সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট হোয়াটসঅ্যাপ টেক্সটের মাধ্যমে সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

বিশেষ করে জানতে চাওয়া হয়—যে কথিত ঘুষ গ্রহণকারীদের কথা তিনি বলেছেন, তাঁদের পরিচয় কী? বদলি সংক্রান্ত নথিতে কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? তাঁর অজান্তে বদলি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

কিন্তু এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফলে যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ঘুষখোর’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের মন্ত্রণালয়ের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল, সেই বদলি-পদায়নের একটি ঘটনাতেই এখন উল্টো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব।

ঘুষের অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্ত কে? বদলির সিদ্ধান্ত যদি মন্ত্রণালয় থেকেই হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তের দায় কার? আর ‘আমি বদলি করিনি’ থেকে ‘আমিই বদলি করেছি’—এই দুই বক্তব্যের মাঝখানে আসল সত্যটাই বা কোথায়?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট বদলি ফাইল, নথিপত্র, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

আর সেখানেই হয়তো পরিষ্কার হবে—অভিযোগের তীর যেদিকে ছোড়া হয়েছিল, সেটি সত্যিই সেদিকেই ছিল, নাকি ঘুরে এসে প্রশ্নবাণ ছুড়ছে অভিযোগকারীর দিকেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।