‘ছয় মাসে সরকার একটি কথাও রাখতে পারেনি’—এমন মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, ছয় মাস পার হয়ে গেছে, এখন সরকারের সমালোচনা শুরু হবে। প্রশ্ন উঠবে—ছয় মাসের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ কি ছয় বছর ধরে চলবে?
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘ছয় মাস চলে গেছে, এখন সবাই কথা বলতে শুরু করবে, সমালোচনা শুরু করবে। ছয় মাসের হানিমুন পিরিয়ড কী ছয় বছর ধরে চলবে? ছয় মাসে একটি শিশু হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করে। কিন্তু সরকার যদি নড়তেই না পারে, তাহলে পাঁচ বছর সময় পার করবে কী করে?
বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা
সরকার সাত দিনে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কথা বললেও দুই মাসেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন মান্না।
তিনি বলেন, ‘একটার পর একটা সমস্যা আসছেই, কোনো সমাধান নেই।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে সরকারের ‘নম্বর কাটা’ শুরু হবে। কাটতে কাটতে একসময় শূন্যতে গিয়ে দাঁড়াবে।
তার ভাষায়, ‘সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসে ফেল, আইনশৃঙ্খলায়ও ফেল।
‘এটার নাম কী গণতন্ত্র?’
গণঅভ্যুত্থানে মানুষের ব্যাপক ত্যাগ ও মৃত্যুর পরও দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘কথা বলতে পারছি, এটাই কী সব? যতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল আছে, তার সবগুলোই বিএনপির দখলে চলে গেছে। এখনও কিছু কিছু টেলিভিশন দখল না হলেও তারা শঙ্কায় কথা বলতে পারছে না। এটার নাম কী গণতন্ত্র?’
দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, রাস্তাঘাটে নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট হচ্ছে; আবার কনসার্ট, গানবাজনা ও নৌকাবাইচের মতো আয়োজন নিয়েও বাধা তৈরি হচ্ছে।
‘উন্নয়ন মানে বড় দালান নয়’
সরকারের উদ্দেশে মান্না বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় দালানকোঠা কিংবা স্থাপনা নির্মাণ নয়। উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূর করা।
তিনি বলেন, ‘একদিনে দারিদ্র্য দূর হবে না, তবে শুরুটা তো করতে পারেন।
৩১ দফা রূপরেখায় ২০৩১ সালের মধ্যে এক কোটি মানুষের চাকরির কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ছয় মাসে একজনেও কী চাকরি হয়েছে? তাহলে এসব চাপাবাজি কেন?’
সরকারি খরচে সোলার প্যানেলের প্রস্তাব
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে সরকারি খরচে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি দাবি করেন, গত এক মাসে সরকার প্রতিদিন ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা করে উত্তোলন করেছে। তার হিসাবে এক মাসে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
মান্নার দাবি, এর চেয়ে অনেক কম অর্থ ব্যয় করে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মান্না বলেন, ‘মানুষের পেটে ভাত নেই। আর আপনি টাকার জন্য ধান্ধা করবেন, ঘুষ-দুর্নীতি করবেন—এটা চলতে পারে না।
‘ছয় মাসে খাতা খুলতে না পারলে নতুন করে পরীক্ষা দিন’
সরকারের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘কনসার্ট, গানবাজনা, নৌকাবাইচ করতে দেবে না, কবর থেকে লাশ উঠিয়ে পুড়িয়ে দেবে। আর নিজেরা হাফ হাতা শার্ট পরে ঘুরলেই দেশটা ভালো চলবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘ছয় মাসে ঠিকমতো খাতা খুলতে না পারলে নতুন করে পরীক্ষা দিন।
‘নতুন ধরনের দল ও নেতৃত্ব দরকার’
বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, দল ও নেতৃত্বকে নতুন ধরনের হতে হবে। এমন দল ও নেতা প্রয়োজন, যারা দেশকে নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
তার ভাষায়, ‘নাগরিক ঐক্য হবে সেই ধরনের ভালো মানুষের দল, যারা দেশটাকে নতুনভাবে সাজাতে পারবেন।
নাগরিক ঐক্যের ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা সৈয়দ আজিজুল হক খসরুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু, দেলোয়ার হোসেন রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, অর্থ সম্পাদক শাহনাজ হক রানু, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল আবছার মজুমদার স্বপন এবং উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের (ইউএসপিওয়াইআরএম) সভাপতি মোহাম্মদ সাদাকাত খান ফাক্কু প্রমুখ।
