বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে শিক্ষিকার মৃত্যু, এবার ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি ডিবির

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার ১৮ দিন পর এবার দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া মো. খোকন ও রাজিব মাতুব্বর (৩৬) এই ছিনতাই ও রনজিলার মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং পেছনে বসে থাকা খোকন রনজিলার ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেন। এতে রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান ওই শিক্ষিকা।

বুধবার মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

আগের গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এর আগে একই ঘটনায় গত ৩০ আগস্ট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২ (বিলুপ্ত র‍্যাব)। তখন বাহিনীটি দাবি করেছিল, গ্রেপ্তার হওয়া মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি প্রধান সন্দেহভাজন এবং সেন্ড্রিক ও রাকিব তাঁর সহযোগী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল র‍্যাব। মোটরসাইকেলটির মালিক ছিলেন রাকিব।

তবে সে সময় মোটরসাইকেলটির রঙ এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পনি তখন দাবি করেছিলেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমানে তিনজনই কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার ১৮ দিন পর খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি বলছে, এই দুজনই রনজিলার ছিনতাই ও মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত। এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার তিনজন এ ঘটনায় জড়িত নন। ডিবির দাবি, দুই সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ভিন্ন দুটি গ্রুপের সদস্য। এমনকি এসআরবি যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, সেটিও রনজিলাকে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহার করা হয়নি।

ব্যাগ, মোবাইল ও মোটরসাইকেল উদ্ধার

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া খোকন ও রাজিবের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, নিহত রনজিলার লুণ্ঠিত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিবি। সংবাদ সম্মেলনে রনজিলার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন সমকালকে বলেন, উদ্ধার করা মালামাল তাঁর স্ত্রীর। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারাই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের কাছে তারা স্বীকারও করেছেন।

যেভাবে শনাক্ত খোকন-রাজিব

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বগুড়া থেকে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে এসে ২৯ আগস্ট ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন শিক্ষিকা রনজিলা। ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই রিকশায় রনজিলার স্বামী আবদুল মতিনও ছিলেন। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারী খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার গজারিয়ায়।

জিজ্ঞাসাবাদে খোকন ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

খোকনের তথ্যেই মিলল ব্যাগ, রাজিবের কাছে ইয়াবা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে তাঁর ব্যবহৃত পোশাক, বাসের টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল।

পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। এরপর বিরুলিয়া থেকে রাজিব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছে ৬২২ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানায় ডিবি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটিই সেদিন রনজিলাকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনার সময় রাজিব ওই মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি তাঁর নিজের।

ডিবি আরও জানায়, রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের তিনটি মামলা।

এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার তিনজন জড়িত নন: ডিবি

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত নন। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে খোকন ও রাজিবকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিবি প্রধান বলেন, এসআরবি তখন ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখার পর পার্থক্য পাওয়া যায়। ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং এবং র‍্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন।

আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তবে পনির বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।

এসআরবির বক্তব্য

এ বিষয়ে এসআরবি-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান সমকালকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলছি, তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পনির সঙ্গে রাজিবের চেহারার অনেকটা মিল আছে। তাই সন্দেহভাজন হিসেবেই গ্রেপ্তার করা হয়। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তদন্তে না আসলে তারা ওই মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রনজিলার স্বামীকে দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের মোটরসাইকেলেই ছিনতাইকারীরা এসেছিল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।