শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৬, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফৌজদারি মামলার আসামি, দুর্নীতির অভিযোগ, অবৈধ সম্পদের প্রশ্ন—তবুও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকার রহস্য কী? ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে। বর্তমানে তিনি সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে একটি চলমান ফৌজদারি মামলায় (সি.আর. নং-১১৮/২০২৫) ১১০ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—একজন মামলার আসামি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?

দীর্ঘ কর্মজীবন, দীর্ঘ বিতর্ক

প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস আহম্মেদ ২০১৫ সাল থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা, নড়াইল, আজিমপুরসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান এবং পরবর্তীতে সিলেট সার্কেলে পদায়ন হন।

তবে তার কর্মজীবনের সঙ্গে নানা সময়ে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার।

জি.কে. শামীম-সংযোগ নিয়ে পুরনো আলোচনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সময় আলোচিত ঠিকাদার জি.কে. শামীমের সঙ্গে ইলিয়াস আহম্মেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১৯ সালে জি.কে. শামীমকে ঘিরে আলোচিত মামলাগুলোর সময় গণপূর্তের অভ্যন্তরে কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

যদিও ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো আদালতীয় রায় বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি, তবুও একাধিক সূত্র দাবি করেছে যে ঠিকাদার নির্বাচন ও কাজ বণ্টনে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন।

আজিমপুর প্রকল্প ও শিশু জিহাদ মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন

আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে পরিচালিত একটি নির্মাণ প্রকল্পে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায়ও তার নাম আলোচনায় আসে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির ব্যবস্থা করে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া যায়নি।

১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, কাজের অনুমোদন এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এখন তুঙ্গে। তবে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, চাকরি জীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন ইলিয়াস আহম্মেদ।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, নিজ এলাকায় ব্যয়বহুল স্থাপনা, এবং বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়া মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় নাম

২০২৫ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় ইলিয়াস আহম্মেদের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।সমালোচকদের প্রশ্ন, তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন এবং প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করছেন?

সিলেটে যোগদানের পরও বিতর্কের ঝড় তবুও রয়েছে বহাল তবিয়তে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, সিলেটে যোগদানের পরও বিভিন্ন প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কমিশন ছাড়া ফাইল অনুমোদন না করার সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ বা সরকারি তদন্তের তথ্য এখনও নজরে আসেনি।

জনমনে প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে?

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দুদক, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ