মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিএনসিসির টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ: কাজ শেষের আগেই আকরাম খানের প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকার বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দুটি সড়কবাতি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বিল অনুমোদনের নথি • এক প্রকল্পে ভৌত অগ্রগতি মাত্র ২৯ শতাংশ • অসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ • সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কর্মকর্তাদের চীন সফর, পরিবারসহ ২২ জন যাওয়ার তথ্য। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দুটি সড়কবাতি প্রকল্পে কাজ ও মালামাল পুরোপুরি বুঝে পাওয়ার আগেই প্রায় ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বিল অনুমোদনের নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্প দুটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রোটেস্টার লিমিটেডের মালিক জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আকরাম খান। এদিকে দরপত্রের যোগ্যতা পূরণে অসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের চীন সফর নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকার বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আয়কর ও ভ্যাট বাদ দেওয়ার পর নিট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর মধ্যে অঞ্চল-৫-এর প্রকল্পে কাজের ভৌত অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ।

ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে সড়কবাতি স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের দুটি কাজ পেয়েছে প্রোটেস্টার লিমিটেড। প্রকল্প দুটির মোট চুক্তিমূল্য ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের আগে সফলভাবে সম্পন্ন করা কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথা। কিন্তু প্রোটেস্টার দুই দরপত্রেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) একটি অসম্পন্ন কাজের সনদ জমা দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসির অন্য একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সড়কবাতি প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০ কর্মকর্তার চীন সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ডিএনসিসি সূত্রের দাবি, অনুমোদিত ১০ জনের পরিবর্তে দুই দফায় পরিবারের সদস্যসহ মোট ২২ জন ওই সফরে যান।

অঞ্চল-৩-এর দরপত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন

মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে বাতির খুঁটি ও স্মার্ট এলইডি লাইট সরবরাহের জন্য ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম দরপত্রটি আহ্বান করেন। এতে অংশ নেয় প্রোটেস্টার লিমিটেড, এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও সালেক পাওয়ার লিমিটেড।

দরপত্রের শর্তে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি গত ১০ বছরের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় অন্তত ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতি বছর ২৩৫টি ডেকোরেটিভ পোল বা সৌন্দর্যবর্ধক বাতির খুঁটি এবং ৩৯৫টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ বা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার শর্তও দেওয়া হয়।

দরপত্রের সঙ্গে প্রোটেস্টার লিমিটেড রাসিকের ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি জমা দেয়। নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩১ মে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ দরপত্র জমা দেওয়ার সময় কাজটি চলমান ছিল। ফলে ওই কাজের ভিত্তিতে সফলভাবে সম্পন্ন প্রকল্পের অভিজ্ঞতা দেখানোর যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর)-এর বিধি ১১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (পিপিএ) বিধি অনুযায়ী কাজ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশনা এবং দরদাতাদের জন্য নির্দেশিকার ১৫.১ (বি) ধারা অনুসরণ না করে ডিএনসিসির ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করা হয়।

ওই সনদের ভিত্তিতে ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দপ্তর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর প্রোটেস্টারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৪ ডিসেম্বর ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার চুক্তি সম্পন্ন হয়।

অঞ্চল-৫-এর দরপত্রেও একই প্রতিষ্ঠানের সনদ

অঞ্চল-৫-এর আওতায় ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট আরও একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকার এই দরপত্র আহ্বান করেন। জাহাঙ্গীর গেট থেকে ফার্মগেট, বিজয় সরণি ও খেজুরবাগান এবং বিমানবন্দর থেকে খামারবাড়ি ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ডেকোরেটিভ লাইট পোল ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ ছিল কাজের আওতায়।

এই দরপত্রে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিল প্রোটেস্টার লিমিটেড। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির একটি একক চুক্তির আওতায় ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকার কথা ছিল। কিন্তু এখানেও রাসিকের অসম্পন্ন কাজের সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে আগের মতোই ডিএনসিসির সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এ কাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়।

দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দরপত্র থেকে মালামাল গ্রহণ পর্যন্ত সব বিষয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে হওয়ার কথা। প্রশ্ন উঠলে করপোরেশন থেকে আবার যাচাই করে দেখা হবে।

মালামাল বুঝে পাওয়ার আগেই বিল পরিশোধের অভিযোগ

প্রকল্পের সরেজমিন অগ্রগতি এবং মালামাল শতভাগ বুঝে পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ডিএনসিসির নথিতে অঞ্চল-৫-এর ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকার প্রকল্পে প্রোটেস্টার লিমিটেডের প্রথম ও চলতি বিল বাবদ ৬ কোটি ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫৮ টাকা অনুমোদনের প্রস্তাব তৈরি করা হয়।

এই বিল থেকে ৫ শতাংশ আয়কর বাবদ ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং ১০ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৫৫ লাখ ৪ হাজার ৩৬০ টাকা কাটার হিসাব দেখানো হয়। সব মিলিয়ে ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৮ টাকা বাদ দেওয়ার পর নিট ৫ কোটি ২০ লাখ ১৬ হাজার ২০০ টাকার পরিশোধ ভাউচার তৈরি হয়।

যমুনা ব্যাংক পিএলসির উত্তরা শাখায় প্রোটেস্টার লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পরিশোধ করে ডিএনসিসি। নথিতে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ২৯ শতাংশ।

প্রকল্পের কাজ ও মালামাল পুরোপুরি বুঝে পাওয়ার আগেই ৬ কোটি টাকার বেশি বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

দরপত্র প্রক্রিয়া ও মালামাল ঠিকাদারের হেফাজতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে অঞ্চল-৩-এর ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পেও প্রোটেস্টার লিমিটেডের প্রথম ও চলতি বিল বাবদ ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৬০ টাকা অনুমোদনের প্রস্তাব তৈরি করা হয়।

এ বিল থেকে ৫ শতাংশ আয়কর বাবদ ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৩ টাকা এবং ১০ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫১ টাকা বাদ দেওয়ার হিসাব দেখানো হয়। মোট ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫১৪ টাকা কেটে রাখার পর নিট ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৭ টাকার পরিশোধ ভাউচার তৈরি হয়। এই অর্থও যমুনা ব্যাংক পিএলসির উত্তরা শাখায় প্রোটেস্টারের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করে ডিএনসিসি।

এই বিলের ফাইলেও মালামাল ও কাজ পুরোপুরি বুঝে না নিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের তথ্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মালামাল রাখার জায়গা নেই। মালামাল ঠিকাদারের হেফাজতে আছে। এখন ইলেকট্রিক পোলের ঢালাইয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত স্থাপন করা হবে।

মালামাল ঠিকাদারের হেফাজতে রাখার বিষয়ে কোনো অনুমতিপত্র রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক উত্তর দেন।

একটি পদের বিপরীতে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী

ডিএনসিসির অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ একটি। তবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একটি পদের বিপরীতে দুজনকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে মাহবুবা আখতার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর অঞ্চল-২-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়াকে তাঁর নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আদেশে দায়িত্বটিকে সাময়িক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, এ কারণে তিনি পদোন্নতি বা স্থায়ীকরণের দাবি করতে পারবেন না। অর্গানোগ্রামের বাইরে আরেকজনকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সে সময় তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সুপারিশ করেন।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুনে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবা আখতারকে মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএনসিসির প্রস্তাবিত ড্রেনেজ সার্কেলে সংযুক্ত করা হয়। একই সময়ে ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ওই দুজনকে নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি আরও কয়েকটি অঞ্চলে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।

একটি পদের বিপরীতে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের সুবিধার্থে একটি পদের বিপরীতে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে চীন সফর, তালিকায় কর্মকর্তারা

সরকারি প্রকল্পের অর্থে বিদেশ সফর বন্ধে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যেই ডিএনসিসির সড়কবাতি প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চীন সফরের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার এক আদেশে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মোট ১০ কর্মকর্তার চীন সফর মঞ্জুর করা হয়। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট অ্যান্ড ডেকোরেটিভ পোল’-এর ‘ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট’ (এফএটি) এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ।

কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের আগে তার মান ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করাকে ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট বলা হয়।

অনুমোদিত সফরকারীদের তালিকায় ছিলেন ডিএনসিসির সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, ডিএনসিসির হিসাব নিরীক্ষা কর্মকর্তা ও প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জিসান বিন মাজেদ।

এ ছাড়া তালিকায় ছিলেন ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আব্দুর রহিম মিয়া, বিদ্যুৎ বিভাগের আরও তিন সহকারী প্রকৌশলী এবং একজন উপসহকারী প্রকৌশলী।

আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ থেকে ১৮ এপ্রিল অথবা নিকটবর্তী সুবিধাজনক সময়ে সাত দিনের জন্য এ সফরের অনুমতি দেওয়া হয়। যাতায়াত ও অবস্থানকালীন সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়। সফরকারীরা দেশীয় মুদ্রায় বেতন-ভাতা পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

সফরের যাবতীয় ব্যয় বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সরবরাহকারী ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘জিয়াংসু সিশিন ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ‘জেজিয়াং হংইউয়ান লাইটিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’-কে। আদেশে বলা হয়, এ জন্য সরকার বা ডিএনসিসিকে সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

তবে ডিএনসিসি সূত্রের দাবি, ১০ জনের সফরের অনুমোদন থাকলেও দুই দফায় পরিবারের সদস্যসহ মোট ২২ জন চীন সফর করেন। প্রথম দফায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহিম মিয়া, উপসহকারী প্রকৌশলী রিয়াজ উদ্দিন ও সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমানসহ ছয়জন যান।

দ্বিতীয় দফায় যান ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে সপরিবারে ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, ডিএনসিসির হিসাব নিরীক্ষা কর্মকর্তা ও প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জিসান বিন মাজেদ।

ডিএনসিসি সূত্রের দাবি, দরপত্রে অনিয়ম ও কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের বিষয়টি আড়াল করার উদ্দেশ্যে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ওঠা এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার আকরাম খানের

প্রোটেস্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকরাম খান দরপত্র ও বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সিটি করপোরেশন মালামাল রাখার জায়গা না দেওয়ায় আমরা জিনিসপত্র নিজেদের তত্ত্বাবধানে রেখেছি। নিয়ম অনুযায়ী তারা আমাদের প্রথম বিল পরিশোধ করেছে।

তবে দরপত্রের যোগ্যতা যাচাই, অসম্পন্ন কাজের সনদ ব্যবহারের অভিযোগ, মালামাল বুঝে পাওয়ার আগেই বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া এবং অনুমোদিত তালিকার বাইরে পরিবারের সদস্যদের সফরে যাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা আরও যাচাইয়ের দাবি রাখে। এসব বিষয়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।