রাজধানী ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে এক আতঙ্কের নাম—মাসুদ। একসময় টোকাই হিসেবে জীবন শুরু করা এই ব্যক্তি এখন অভিযোগ অনুযায়ী মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের এক প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই মাসুদকে ঘিরে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব তথ্য।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কাঁচিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ জীবিকার সন্ধানে ছোটবেলায় ঢাকায় আসেন। মোহাম্মদপুরে একটি ভাঙারির দোকানে অল্প বেতনে কাজ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কথিত ‘শহীদ কমিশনার’ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির দায়িত্ব পান তিনি।
চকবাজার, লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, মিরপুরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন—কখনো অপহরণ, কখনো শারীরিক নিপীড়ন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ একটি নারীচক্র গড়ে তুলে ‘হানিট্র্যাপ’ কৌশলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা আদায় করছেন। এই চক্রের নেতৃত্বে কয়েকজন নারী সক্রিয় বলে জানা গেছে।
মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রেও মাসুদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বদির হয়ে ঢাকায় মাদক ব্যবসার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন মাসুদ।
এছাড়া, কিছু প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই তিনি এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদ দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে “সাধারণ জীবনযাপন” করছেন এবং একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলেই দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের ভাষ্য—মাসুদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে সমাজে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
উল্লেখ্য যে, মাসুদকে ঘিরে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধচক্রের লাগাম টানা না গেলে রাজধানীর নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এখন ভুক্তভোগীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি এ মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাবস্থা নিবেন? না তাদের অপতৎপরতা দিনদিনই বেড়ে সামাজিক অবক্ষয় বাড়াবে এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজছে নেটিজেনরা।
