ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে যাওয়া অজ্ঞাত এক কিশোরীর পরিচয় এক সপ্তাহ পার হলেও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। একই সঙ্গে কিশোরীকে হাসপাতালে এনে রেখে পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা যায়নি। তাদের খুঁজে বের করতে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা প্রায় ১১টার দিকে আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে নিয়ে আসে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি। তারা কিশোরীকে হাসপাতালের একটি ট্রলিতে তুলে দিয়ে ‘টিকিট কেটে নিয়ে আসছি’ বলে কৌশলে সেখান থেকে সরে যায়।
বিষয়টি নজরে আসে হাসপাতালের ট্রলিম্যান আব্দুর রউফের। তিনি দ্রুত কিশোরীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন এবং দুই হাতে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে হত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার জানান, এখন পর্যন্ত কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ দেখতে একজন ব্যক্তি হাসপাতালে এলেও তিনি জানিয়েছেন, নিহত কিশোরী তার পরিচিত নন। ফলে পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজের মাধ্যমে কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা দুই ব্যক্তি এবং তাদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, অজ্ঞাত কিশোরীর পরিচয়, মৃত্যুর রহস্য এবং তাকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্তেও নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।
কিশোরীটি কে, কোথা থেকে তাকে আনা হয়েছিল এবং কেনই বা মৃত্যুর পর তাকে ঢামেক হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেল দুই ব্যক্তি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তকারীদের নজর সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে।
