ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে মামলার তথ্য, এমপিও ফাইল আটকে অর্থ আদায় ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ; সংবাদ প্রকাশ হলেই প্রতিবেদককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। ফাইল ছবি
আমি মাউশির ডিজির লোক, আমার হাত অনেক লম্বা। নিউজ হোক আর যাই হোক, আমার কিছুই হবে না—আমার বিরুদ্ধে যারা সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিচ্ছে, তাদের দেখে নেব।
রাজধানীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিমকে ঘিরে এমনই একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে অধীনস্থ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন তিনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলাও চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক শিক্ষক। তবে আব্দুল হাকিম এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি ‘সমতল মাতৃভূমি’ অনলাইন পোর্টালে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে তিনি এমন দম্ভোক্তি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডিজির লোক’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
জানা গেছে, বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার অঞ্চলের ঢাকা জেলা রোভারের আওতাধীন ‘আমরা স্কাউটস গ্রুপ, ঢাকা’-এর প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়। ওই বিদ্যালয় ভবনেই বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অস্থায়ী কার্যালয় অবস্থিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। অনুষ্ঠান শেষে আগত শিক্ষকদের কাছে আব্দুল হাকিম নিজেকে মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার বিরুদ্ধে যতই লেখালেখি হোক, তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেন—এমন অভিযোগ করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে তথ্য সরবরাহকারীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক শিক্ষক ‘শিক্ষা সংবাদ’-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
‘মুখ খুললেই ক্যারিয়ার শেষ’—শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, মো. আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক কথা বললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তাদের দাবি, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের পর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অলিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ যেন তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ বা বক্তব্য না দেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।
‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ নির্বাচনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রতি বছর ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, শিক্ষা অফিসের আওতাধীন সাতারকুল উচ্চ বিদ্যালয়, বেরাইদ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, ছোলমাইদ স্কুল এন্ড কলেজ, খিলবাড়ির টেক উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের যোগ্য ও দক্ষ প্রধান শিক্ষকদের উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরপর দুইবার ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচিত করা হয়েছে। অথচ অনিয়মের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষকের বর্তমান মাসিক-ভাতা (এমপিও) স্থগিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আব্দুল হাকিম। তার দাবি, মিজানুর রহমান কোনো ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সমন্বয় কমিটির অর্থ নিয়ন্ত্রণে ‘দুইজনের আধিপত্য’?
বাড্ডা থানা শিক্ষা অফিসে গঠিত সমন্বয় কমিটির মাধ্যমেও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারাকে অর্থ সম্পাদক করা হলেও তিনি ছিলেন কার্যত নামমাত্র। কমিটির আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের হাতে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে আব্দুল হাকিম এমন কোনো কমিটি নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো কমিটির বিষয়েই তিনি অবগত নন।
এমপিও ফাইল আটকে ‘নিয়োগের শর্ত’ দেওয়ার অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর ছোলমাইদ স্কুল এন্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ফাইল নিয়ে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন এমপিও ফাইল আটকে রাখার পর আব্দুল হাকিম শর্ত দেন—তার ঘনিষ্ঠ অফিস সহকারী সোহেল, তার বোন এবং বোনের স্বামীকে নিয়োগ দেওয়া হলে তবেই এমপিও ফাইল ফরওয়ার্ড করা হবে।
পরিস্থিতির চাপে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট সময়ের ইএমআইএস (EMIS) সেলের তথ্য, নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।
আব্দুল হাকিম অবশ্য নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, কোনো নিয়োগ তার একক সিদ্ধান্তে হয় না; মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
‘ফাইল নড়ে না টাকা ছাড়া’—কল রেকর্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ
আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা কতটা—তা বোঝাতে ‘শিক্ষা সংবাদ’-এর হাতে আসা দুই প্রধান শিক্ষকের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে ওই কথোপকথনের অংশবিশেষে এক শিক্ষক অপরজনকে বলেন—
এমপিও নিয়ে যে কথা বলতে যায়, তারেই শেষ করে হালায় স্যার… আমার স্কুল থেকে কত লাখ টাকা নিছে স্যার এমপিও’র থেকে। প্রতিটা ফাইল পাঠানোর জন্য স্যার কত টাকা করে এমপিও নেয়!
কথোপকথনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ, অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা দেওয়া, পরে সেগুলো অফিসে জমা নেওয়া এবং বই বিক্রির অর্থের হিসাব না দেওয়ার মতো বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন মাউশি ডিজি ও আব্দুল হাকিম। ছবি: সংগৃহীত
ওই কথোপকথনে আরও বলা হয়, আব্দুল হাকিম নিয়মিত দিনের বেলায় অফিসে না থেকে রাত ৮টা থেকে ১০টা, এমনকি ১১টা-১২টা পর্যন্ত অফিস করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং অফিস সহকারী রিপনের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়।
একই কথোপকথনে এমপিও ফাইল, পাসওয়ার্ড, বেতন সংক্রান্ত জটিলতা এবং ‘শাপলা প্রতিযোগিতা’র অর্থ বিতরণ নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়।
তবে কল রেকর্ডটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, বক্তাদের পরিচয় এবং কথোপকথনের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না—তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। ফলে এসব বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘সেবা নেই টাকা ছাড়া’—এক ডজন শিক্ষকের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রায় এক ডজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ইএমআইএস সেলের পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে এমপিও, উচ্চতর স্কেল, বিএড স্কেল কিংবা টাইম স্কেল—কোনো ফাইলই টাকা ছাড়া এগোয় না।
টা
তাদের অভিযোগ, এনটিআরসিএ কিংবা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ফাইল প্রেরণেও অর্থ দাবি করা হয়।
এ ছাড়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রধান শিক্ষকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ফাইলের গতিবিধি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
দুদকে মামলার অভিযোগ—কী বলছেন কর্মকর্তা?
একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হয়েছে এবং সেটি এখনও চলমান।
তবে আব্দুল হাকিম এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত কয়েকজন অসাধু শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন।

‘সংবাদ প্রকাশ ব্ল্যাকমেইল’—দাবি আব্দুল হাকিমের
তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম ‘সমতল মাতৃভূমি’-কে বলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে মাউশির মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে অংশ নিয়েছিলেন।
নিজেকে ‘ডিজির লোক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ডিজি মহোদয় আমাদের সবার অভিভাবক।
অনুষ্ঠানে তিনি কোনো বিতর্কিত বক্তব্য দেননি দাবি করে আব্দুল হাকিম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও অনুষ্ঠানের ভিডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বাড্ডা থানার অধীন ১৫টি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে বসে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত জবাব দিতে প্রস্তুত।

নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নিয়োগ তার একক সিদ্ধান্তে হয় না। মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচনেও ব্যক্তিগত পছন্দের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মিজানুর রহমান মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সমন্বয় কমিটির অর্থ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তিনি নাকচ করেছেন।
‘প্রমাণ ছাড়া সংবাদ হলে আইনগত ব্যবস্থা’
আব্দুল হাকিম বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ করা হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য একই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। অভিযোগগুলোর তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সামনে আলোচনা করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
‘বিষয়টি অবগত, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’—মাউশির ডিজি
আব্দুল হাকিম নিজেকে তার ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মূল প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত এবং এরই মধ্যে এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এসইসিপ (SESIP) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক স্পষ্ট করেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়োগ, বদলি ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা মূলত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বের আওতাভুক্ত। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত ও সর্বশেষ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
‘তদন্ত শুরু হয়েছে’—এসইসিপ প্রকল্পের বক্তব্য
এ বিষয়ে এসইসিপ প্রকল্পের যুগ্ম পরিচালক (পিডি অ.দা.) মো. আমিনুল ইসলাম ‘শিক্ষা সংবাদ’-কে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালকের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি বিধিমালা ও সার্ভিস রুল অনুযায়ী কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত বা শাস্তি দেওয়া যায় না। অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পরই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যথাযথ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আমরা স্কাউটস গ্রুপের পুরো প্রোগ্রাম জুড়েই ডিজি যেখানে হাকিম সেখানে। ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ—এখন নজর তদন্তের দিকে
একদিকে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের একটি অংশের অভিযোগ—ঘুষ, এমপিও ফাইল আটকে অর্থ আদায়, নিয়োগে প্রভাব বিস্তার, পছন্দের ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাড্ডা থানা শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার করছেন আব্দুল হাকিম।
অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি—এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে কয়েকজন অসন্তুষ্ট ও বিতাড়িত শিক্ষকের ষড়যন্ত্র।
এরই মধ্যে মাউশির মহাপরিচালকের নির্দেশে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা। ফলে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তা এখন নির্ভর করছে নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ফাইল, আর্থিক লেনদেন, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের নিরপেক্ষ যাচাইয়ের ওপর।
তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে এলে বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর রহস্যও অনেকটাই পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
