মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগের পাহাড়, বহাল এনবিআরের উপকমিশনার আবু হানিফ আহাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কর্মস্থল বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন—দুদকে লিখিত অভিযোগ। ফাইল ছবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, মতিঝিল ডিভিশনের উপকমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও চাঁদা দাবির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অতীতের বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পরও স্বপদে বহাল থাকায় ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে রাজধানীর পোস্তগোলার আইরিশ পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে সর্বশেষ ঢাকা ভ্যাট জোন—বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ঘিরে একাধিক বিতর্কের তথ্য সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় অসদাচরণ, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, বৈধ পণ্য জব্দ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে অসদাচরণের অভিযোগ

অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় অসদাচরণের অভিযোগে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন আবু হানিফ আহাদ। ওই সময় তাঁকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁর আচার-আচরণ সংশোধনের বিষয়ে ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ থাকার দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁর তৎকালীন দায়িত্ব পালনের ধরন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

পোস্তগোলার বারে অভিযান ঘিরে বিতর্ক

২০২১ সালে রাজধানীর পোস্তগোলার আইরিশ পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযানের সময় শুল্ক গোয়েন্দা দলের নেতৃত্বে থাকা আবু হানিফ আহাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মদপানে লিপ্ত হওয়া এবং ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনা ঘটে।

একজন রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযানের নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সে সময় কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরে বৈধ পণ্য জব্দ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

আখাউড়া স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে নিলামে কেনা কোটি টাকার বৈধ মালামাল জব্দের অভিযোগও রয়েছে আবু হানিফ আহাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী মামলা করেন বলে অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে মামলার নথি, জব্দ করা পণ্যের কাগজপত্র, নিলামসংক্রান্ত দলিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি দায়িত্ব পালনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যবসায়ীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিদেশে অবস্থান ও পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবু হানিফ আহাদ কর্মস্থল ত্যাগ করে বিদেশে চলে যান। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ ও কর্মস্থল থেকে পলায়ন’-এর অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।

তবে চলতি বছরের ৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুনর্বহাল করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী প্রশাসনিক বিবেচনা কাজ করেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তদন্ত হয়েছিল এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও যথার্থতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

পুনর্বহালের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বিতর্কিত পুনর্বহাল ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটি ও সাধারণ নাগরিক সমাজ। কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয় বলে জানা গেছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ, দুদকে লিখিত আবেদন

এদিকে আবু হানিফ আহাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ নাগরিকদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি করা হয়েছে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন করা। একই সঙ্গে অতীতের কর্মস্থলগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একজন রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর তদন্ত হয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং দায় থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ বিষয়ে আস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।

চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।