শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদোন্নতির দৌড়ে ওমর ফারুক, পেছনে ৪২ কোটি টাকার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুদকের অনুসন্ধানে ৬১ ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অডিট টিম নিয়োগ ও আপত্তি নিষ্পত্তিতে ঘুষের অভিযোগ।পরিবারের সম্পদ-লেনদেনও নজরদারিতে। ওমর ফারুক। ফাইল ছবি

পদোন্নতির দৌড় যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অডিট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা না দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুধু অর্থ আত্মসাত নয়—তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।

অভিযোগের আর্থিক লেনদেনের চিত্র বের করতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে কমিশন। দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হক দেশের ৬১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওমর ফারুক, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহে দেশের তিন জেলাসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানকারীরা মূলত খুঁজে দেখছেন—ঘোষিত আয় ও বাস্তবে অর্জিত সম্পদের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক ব্যবধান রয়েছে কি না, বিপুল অর্থের লেনদেন কোথা থেকে এসেছে এবং অভিযোগে ওঠা অর্থের সঙ্গে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।

অডিট টিম নিয়োগেই ‘২০ লাখ’?

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, চাকরিতে থাকাকালে এলজিইডির বিভিন্ন ইউনিটের অডিট টিম নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিতেন ওমর ফারুক। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি অডিট টিম নিয়োগের বিনিময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করা হতো।

এ ছাড়া মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এলজিইডিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ অডিট ফাইল অনেক সময় আটকে রাখা হতো। পরে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর আপত্তি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হতো—এমন অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

সাবেক এমপিদের প্রকল্পের অডিট আপত্তি নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটসংক্রান্ত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের আর্থিক ভিত্তি যাচাই করতেই ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও লেনদেনের বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক।

নজর এখন পরিবারের সম্পদেও

দুদকের অনুসন্ধানের পরিধি শুধু ওমর ফারুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে।

সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানকারীরা দেখতে চাইছেন, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ও অর্থের উৎস কী এবং সেগুলোর সঙ্গে ওমর ফারুকের আয় ও চাকরিকালীন আর্থিক কর্মকাণ্ডের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

অনুসন্ধানের মধ্যেই পদোন্নতির চেষ্টা?

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থাতেও ঘুষের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন ওমর ফারুক। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানেই যাচাই হওয়ার কথা।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক ও সম্পদসংক্রান্ত তথ্য হাতে পাওয়ার পর সেগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। এরপর অভিযোগগুলোর সঙ্গে সংগৃহীত তথ্যের মিল-অমিল যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি

তবে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ, সম্পদ অর্জন কিংবা পদোন্নতির জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।