বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদ্মার চরে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ: আধিপত্যের লড়াইয়ে নিহত ১, কাঁপছে সীমান্তবর্তী জনপদ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
জুন ১০, ২০২৬ ১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সংঘর্ষের রণক্ষেত্রে। বালুমহল নিয়ন্ত্রণ, ফসলি জমির দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (দুপুর ১১টার দিকে) পদ্মার দুর্গম চর এলাকায় ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত বালুমহলের ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫)। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে।

শতাধিক গুলির শব্দে প্রকম্পিত পদ্মার চর

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ মঙ্গলবার নতুন করে রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দ হাজার মৌজার হবির চর থেকে রাজশাহীর বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় চলে তুমুল গোলাগুলি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উভয় পক্ষের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। গুলির শব্দে পুরো চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন সাধারণ মানুষ।

পদ্মার চরে সক্রিয় একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মা চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সশস্ত্র বাহিনী। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনীর বিল্লাল ও মুনতাজ মণ্ডল, পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নাহারুল বাহিনীর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয় এবং চরাঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে নিয়মিত শক্তি প্রদর্শন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, তাদের হাতে একে-৪৭সহ আধুনিক ভারী অস্ত্রও রয়েছে।

স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ

সংঘর্ষের পর নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি স্পিডবোটে আজিজুল হক ঝড়ুর মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এদিকে নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহের মাথায় গুলির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকযুদ্ধের সময়ই তিনি নিহত হন।

আতঙ্কে চরবাসী-

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলছে। কিন্তু কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

তাদের ভাষায়, প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া আর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে জীবনযাপন করছে।

আগেও ঝরেছে প্রাণ-

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরের কাশবনের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কাঁকন ও মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মণ্ডল গ্রুপের দুই সদস্য এবং কাঁকন বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য : ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা আধুনিক ভারী অস্ত্র, বিশেষ করে একে-৪৭ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

চরাঞ্চলে প্রশ্ন একটাই—

পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে সশস্ত্র বাহিনীগুলোর দৌরাত্ম্য, প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান কবে হবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও কার্যকর অভিযানের মাধ্যমে চরাঞ্চলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।