প্রতীকী ছবি
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার নিষ্পাপ শিশু কন্যা। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার শিকড় গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। আগুনে পুড়ে মারা যান সোনিয়া খাতুন (২৯) এবং তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে মেহা মনি।
নিহত সোনিয়া খাতুন স্থানীয় আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তার ছোট্ট মেয়ে মেহা মনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গ্রামের মানুষ জানায়, মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছিলেন সোনিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন সোনিয়ার মা ও ভাবী। হঠাৎ করেই সোনিয়ার ঘর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর কান্নার মাতম।
খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরেই প্রাণ হারান সোনিয়া খাতুন।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার শিশু কন্যা মেহা মনিকে। তাকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানে ছোট্ট মেয়েটিও।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানান, শিশুটির শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে মা-মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, ছোট্ট মেহা মনির নিষ্পাপ মুখটি এখনও চোখে ভাসছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘরের ভেতর কেরোসিনের গন্ধ পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে সোনিয়া নিজেই ঘরে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
