বগুড়ার ধুনটে বাঁশঝাড় থেকে পরিত্যক্ত নবজাতক উদ্ধার। শেফালী খাতুনের কোলে নবজাতক শিশুটি। ছবি: সংগৃহীত
বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল নবজাতকের কান্না। গোখাদ্যের জন্য বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে সেই কান্না শুনতে পান কৃষক মিজানুর রহমান। কাছে গিয়ে দেখেন, বাঁশঝাড়ের মধ্যে পড়ে আছে সদ্যজাত এক ছেলে শিশু। কোনো কিছু না ভেবেই শিশুটিকে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। পরে শিশুটিকে দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বগুয়াডহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় নবজাতকটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পূর্বগুয়াডহরী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সোমবার সকালে ধুনট-গোশাইবাড়ি সড়কের মসজিদসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে গোখাদ্যের জন্য বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময় হঠাৎ বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎসের কাছে গিয়ে একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ার পর মিজানুর রহমানের স্ত্রী শেফালী খাতুন পরম মাতৃস্নেহে তাকে বুকে আগলে নেন। মুহূর্তের মধ্যে নবজাতক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মিজান-শেফালী দম্পতির বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন উৎসুক মানুষ। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো ব্যক্তি হয়তো নবজাতকটিকে বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে গেছে।
পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শেফালী খাতুন শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেফালীর মাতৃস্নেহ ও পরিচর্যায় শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করছে।
শেফালী খাতুন বলেন, ‘দাম্পত্য জীবনে আমার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমার ছেলে সন্তান নেই। তাই আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছেন। আমি সকাল থেকেই কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে পরম মাতৃস্নেহে আদর-যত্ন করছি। আমি এই শিশুকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করতে চাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কদির বলেন, ‘নবজাতক শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জানার পর শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শেফালী খাতুন শিশুটিকে মাতৃস্নেহে পরিচর্যা করছেন। তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা-মা পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেফালী খাতুন শিশুটির পরিচর্যা করছেন। তিনি শিশুটিকে নিতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
