বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআইডব্লিউটিএর ৪ কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৩, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অবৈধ সম্পদ, নদী খনন প্রকল্পে অনিয়ম, রুট পারমিট বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত জোরদার। বিআইডব্লিউটিএতে দুর্নীতির বিস্তৃত অনুসন্ধান, এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী নজরদারিতে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে সংস্থাটির সিবিএর সাবেক এক নেতা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএতে অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রধান খাতগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কমিশন। চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রের দাবি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিআইডব্লিউটিএর এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী বর্তমানে অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে

অনুসন্ধানের আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এবং ভূমি ও আইন বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত;

ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান;

ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম;

প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া;

শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।

আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের দায়িত্ব পালনকালে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গাসহ বিভিন্ন নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদীতীরভূমি ইজারা ও রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন।

এ অভিযোগ তদন্তে দুদকের উপ-পরিচালক (অনু ও তদন্ত-২) মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র মজুমদারকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক আরিফ উদ্দিনের চাকরিজীবনের শুরু থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা, দায়িত্ব সংক্রান্ত অফিস আদেশ, ব্যক্তিগত নথি এবং তার নিজ, স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার আবেদন ও অনুমোদনসংক্রান্ত সব নথি বিআইডব্লিউটিএর কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে।

নদী খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে নজরদারিতে ছাইদুর রহমান

ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক নদী খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তকালে তার ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সম্পদ বৈধ দেখাতে তিনি মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করেছেন।

রুট পারমিট বাণিজ্যের অভিযোগ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযানের রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিক নৌযান মালিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

সাবেক সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মামলা

সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বিআইডব্লিউটিএর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের শুল্ক আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ অর্জনে স্বামীকে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার স্ত্রী শাহিদা বেগমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন গত ২০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসতে পারেন অনুসন্ধানের আওতায়

সূত্র জানায়, ড্রেজিং বিভাগের একজন প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী, একই বিভাগের এক কর্মচারী, বিআইডব্লিউটিএর আরও দুই কর্মচারী এবং প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তাও শিগগির অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারেন।

এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী গত এক দশকে বেশ কয়েকটি নদী খনন প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া সন্দেহভাজন তিন কর্মচারীর প্রত্যেকেই সিবিএর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের একজনকে অতীতে একাধিকবার তলব করা হলেও অনুসন্ধান শেষে দায়মুক্তি পাওয়ার দাবি করে তিনি বিভিন্ন মহলে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দুদক আইনে ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না; প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় অভিযুক্তকে পুনরায় তলব ও অনুসন্ধানের আওতায় আনা যেতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।