প্রতীকী ছবি
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিমানবন্দর থেকে বের হতেই ঘিরে ধরার অভিযোগ
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বলাকা ভবনের সামনে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। বোনের বিয়ে ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য গত ২৮ আগস্ট তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান।
পরে বাদী তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৮টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন। এরপর ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে নামেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোবাস থেকে নামার পরপরই কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন। এ সময় তাদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং তাদের কাছে বোমা রয়েছে—এমন কথা বলে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আশপাশের লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
মামলায় চারজন, গ্রেপ্তার দুই
বিমানবন্দর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে আসামি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রউফ ও আল আমিন শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
‘রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়’: পুলিশ
বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান সমকালকে বলেন, ‘আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়, আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অন্য কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মামলার বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
