শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের আচরণ নিয়েই এবার উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক শিক্ষিকার কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে উপজেলারই এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে আপত্তিকর ও অসংলগ্ন অবস্থায় দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভিডিওটি গত ১৮ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের মুরাদপুর এলাকার ‘জামান হোটেল’-এ ধারণ করা হয়েছিল।
স্থানীয় শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন এবং এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযুক্তদের দ্রুত অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা।
চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মারুফ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, চন্দনাইশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কবিরের যে ভিডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে, শিক্ষার মান ও পরিবেশ রক্ষায় তাকে দ্রুত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওই পোস্টে মন্তব্য করে চন্দনাইশ পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী কুতুব উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষকদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজীব উদ্দিন চৌধুরী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবিলম্বে চন্দনাইশ থেকে প্রত্যাহার এবং শিক্ষার মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
