শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক-ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে করিম খুন: পুলিশ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুই মোটরসাইকেলে পাঁচজনের হামলা, চাপাতির কোপের পর গুলি; রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবি নাকচ। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে আবদুল করিম নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন হামলাকারী এসে করিমকে ঘিরে ফেলে। প্রথমে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর হামলাকারীদের দুজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে করিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে এন্ডারসন সড়ক দিয়ে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই বাজারের দিকে পালিয়ে যায়।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল করিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি; অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থলের স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন কর্মকর্তারা।

মাদক-ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি থেকেই বিরোধ?

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত আবদুল করিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত মোট ১০টি মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, তিনি ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই বাজার এলাকার আলোচিত ডাকাত পারভেজের অনুসারী ছিলেন করিম। তারা একসঙ্গে ইয়াবা ব্যবসা ও ডাকাতিতে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

একপর্যায়ে এসব কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে করিম ও পারভেজের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে করিম ওই চক্র থেকে বেরিয়ে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরপর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পুরোনো ওই বিরোধের জের ধরেই আবদুল করিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রাউজান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামাল উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে।

যুবদলের কর্মী—দাবি নাকচ পুলিশের, অস্বীকার স্থানীয় যুবদলেরও

হত্যার পর স্থানীয়ভাবে আবদুল করিমকে যুবদল-সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। তবে পুলিশ ও উপজেলা যুবদল নেতারা এ দাবি নাকচ করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, নিহত করিম কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কর্মী ছিলেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিলও করিমের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, করিমের যুবদলে কোনো পদ-পদবি ছিল না এবং তাকে কখনো মিছিল-মিটিংয়েও দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে করিমের ডাকাত দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।

‘স্বামীর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল—এমন কথা শুনিনি’

তবে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তারের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল—এমন কথা শুনিনি। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কাউকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দেখেননি। তাই নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, পরবর্তী সময়ে তাদের আসামি করা হবে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ইতিমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

রাউজানে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, ফের আলোচনায় নিরাপত্তা

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পক্ষের লোকজন নিহত হয়েছেন।

সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীহাট এলাকায় আবদুল করিম হত্যার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, নাকি মাদক, ডাকাতি ও অর্থ ভাগাভাগির বিরোধই মূল কারণ—তা এখন তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।