বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিরপুর-৬-এর আয়ান হোটেল ঘিরে একাধিক অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠছে নানা প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের কেন্দ্রীয় মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত আয়ান হোটেল ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, নির্ধারিত মূসক চালানে বিল না দেওয়া, অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো, ফুটপাতের অংশ হোটেলের কাজে ব্যবহার, পোড়া বা বারবার ব্যবহৃত তেলে খাবার ভাজা এবং কিছু খাদ্যপণ্যের তুলনামূলক বেশি দাম রাখার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সবগুলোই অস্বীকার করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি ও ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অভিযোগগুলোর কিছু বিষয় ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

মূসক চালান ও বিল নিয়ে অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, হোটেল থেকে খাবার কেনার পর অনেক সময় নির্ধারিত মূসক চালান বা যথাযথ বিল দেওয়া হয় না। এতে প্রতিষ্ঠানটি সরকার নির্ধারিত ভ্যাট ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নানাবিধ বাস্তবতার কারণে সবসময় নির্ধারিত মূসক চালানে বিল দেওয়া সম্ভব হয় না।

শিশু শ্রমিক ব্যবহারের অভিযোগ

হোটেলটিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু শ্রমিক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আয়ান হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মানবিক বিবেচনা থেকেই অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।

ফুটপাত ব্যবহারের অভিযোগ

স্থানীয়দের আরেক অভিযোগ, হোটেলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আশপাশের ফুটপাতের অংশ ব্যবহারের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পথচারীদের সড়কের কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে ফুটপাত দখল বা আটকে হোটেলের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কখনোই ফুটপাত আটকে হোটেলের কাজে ব্যবহার করা হয় না।

খাবারের মান ও তেলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

খাদ্যের মান নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পোড়া বা বারবার ব্যবহৃত তেলে খাবার ভাজা হয়। পাশাপাশি কিছু খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

পোড়া তেলে খাবার ভাজার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। খাদ্যপণ্যের দাম বেশি রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বিবেচনা করেই মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং তারা “যতটুকু না হলেই নয়, ততটুকুই লাভ” করেন।

তদন্তে মিলবে প্রকৃত চিত্র

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা জানতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, শ্রম সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং ভ্যাট কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে সরেজমিনে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাদের মতে, অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদন্ত হলেই আয়ান হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়ান হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রামাণ্য যাচাইসাপেক্ষ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।