বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, চাইলেন এমপিদের ভোট

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ারও অনুরোধ জানান।

মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বক্তব্য ঘিরে সভাকক্ষে তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

ভোটের প্রক্রিয়া বুঝিয়ে ফখরুলের পক্ষে ভোট চাইলেন চিফ হুইপ

সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান।

সংসদ সদস্যদের তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া চাইলেন ফখরুল

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্যবিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা চান।

মির্জা ফখরুল বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে সবার কাছে দোয়া চান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যেই চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে পুরো সভাকক্ষ আবেগঘন হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও এ সময় আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বৃহস্পতিবারের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আর দেখা যাবে না—এই বাস্তবতাই তার বিদায়ী বক্তব্যকে আরও আবেগময় করে তোলে।

ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা তারেকের

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।

এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য—এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে মির্জা ফখরুল দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি। তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি। একই সঙ্গে সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এমপিদের সতর্ক করলেন তারেক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না যান, সে জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে জয়ী করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাংগঠনিক বার্তা—দুই মিলিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের বুধবারের বৈঠকে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।