রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা: পুলিশ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লায় ১৩ বছরের স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি, আটক ৪। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনজনকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর একজনের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।

রোববার দুপুর আড়াইটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে ফাহাদ ও কামরুল নামে তার আরও দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরে পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকেও হেফাজতে নেয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের (১৯) বাবার নাম নূর আলম। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন।

মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদ (১৫) একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার (মেম্বার বাড়ি) বাসিন্দা। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসানের (১৮) বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে এবং মো. সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাইসহ তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।