মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ‘৩১ দফা’—বগুড়ার মঞ্চে প্রতিশ্রুতির ঝড় তুললেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সংগ্রাম থেকে স্বপ্নে—উন্নয়নের প্রেমে নতুন বাংলাদেশের আহ্বান।

স্বৈরাচারের ভীতি যখন রাজনীতির আকাশ ঢেকে দিয়েছিল, তখনই সাহসের আগুন বুকে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হাজির করেছিল তাদের ঐতিহাসিক ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি—এমনটাই দৃপ্ত কণ্ঠে স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বিকেলের পড়ন্ত আলোয় বগুড়া-র ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ যেন পরিণত হয়েছিল আবেগ, প্রতিশ্রুতি আর জনসমুদ্রের মিলনমেলায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলায় এসে তিনি যখন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান-কে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন, তখন জনতার উচ্ছ্বাসে যেন কাঁপতে থাকে পুরো মাঠ, ছড়িয়ে পড়ে এক অনির্বচনীয় রোমাঞ্চ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন অন্যরা ‘সংস্কার’ শব্দটিও উচ্চারণ করতে ভয় পেত, তখন আমরা ৩১ দফা দিয়েছিলাম। কারণ আমরা দেখেছি গত ১৬ বছরে কীভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে—মেগা প্রকল্পের আড়ালে চলেছে লুটপাট।

তার কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের দৃঢ়তা, আবার ভবিষ্যৎ গড়ার এক কোমল অঙ্গীকার—যেখানে রাজনীতি আর উন্নয়ন যেন এক সূক্ষ্ম প্রেমের বন্ধনে জড়ানো।

আবার ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত সংস্কার কমিশনে নিজেদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই—দেশের মানুষের উন্নয়ন।

মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি তুলে ধরেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর মতো উদ্যোগ। তার ভাষায়, এগুলো কেবল কর্মসূচি নয়—খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের ভালোবাসার প্রকাশ।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে— শিগগিরই সুখবর আসবে—তার এই আশ্বাসে ভিড়ের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আশার আলো।

এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা যেন কৃষকের জমিতে নতুন জীবনের স্রোত বইয়ে দেওয়ার এক স্বপ্ন।

স্থানীয় উন্নয়নেও ছিল বড় ঘোষণা—বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ দ্রুত বাস্তবায়ন, বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধায় উন্নীত করা এবং নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে আধুনিক ও নান্দনিক শহরে রূপান্তরের অঙ্গীকার।

দিনভর সফরে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন জেলা জজ আদালতের নতুন ভবন, ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ও অন্যান্য উদ্যোগও উদ্বোধন করেন তিনি।

এই সফরকে ঘিরে শুধু বগুড়া নয়, পুরো উত্তরবঙ্গ যেন জেগে উঠেছিল এক উচ্ছ্বাসে। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ছাপিয়ে জনতার ঢল ছড়িয়ে পড়ে শহরের সড়কজুড়ে—যেন এক আবেগঘন উৎসব, যেখানে রাজনীতি ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়।

শেষ প্রশ্নটা যেন বাতাসে ভেসে থাকে— এই প্রতিশ্রুতির ঢেউ কি সত্যিই বদলে দেবে বাংলাদেশের আগামীকাল?
নাকি এও হারিয়ে যাবে অতীতের প্রতিশ্রুতির ভিড়ে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।