পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ৩৭০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। এছাড়া জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং, জুরাছড়ি সদর ও বনযোগীছড়া ইউনিয়ন, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা এবং বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ফলে এসব এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হয়নি, তবে উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে।
বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট (মিন সি লেভেল), যেখানে এ সময় রুলকার্ভ অনুযায়ী থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট। উল্লেখ্য, হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট (মিন সি লেভেল)।
এদিকে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শুক্রবার পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১০ উপজেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৫০৮ জন, কাউখালীতে ১১৫ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বাঘাইছড়িতে ২ হাজার ৩৬৬ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন এবং জুরাছড়িতে ১৬ জন রয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী মানুষের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্যোগের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা পান।
