সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। ছবি: সংগৃহীত
তের বছর আগের বহুল আলোচিত মতিঝিলের শাপলা চত্বর—যে রাত নিয়ে এখনও রাজনীতি, বিতর্ক আর রক্তাক্ত স্মৃতির উত্তাপ থামেনি। সেই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রুপা-কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালতপাড়াজুড়ে এদিন ছিল ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।
গত ৭ মে শুনানিতে প্রসিকিউশন দাবি করে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত অভিযানের সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন দীপু মনি। সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
একইসঙ্গে অভিযোগ আনা হয়, হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও সংবাদ উপস্থাপনার মাধ্যমে উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় মোজাম্মেল বাবু ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্বে।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন আরও ছয়জন। তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি-র উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হক-এর পক্ষে করা ওই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শাপলা চত্বরের সেই রাতের রহস্য, রক্ত আর রাজনৈতিক উত্তাপ আবারও যেন ফিরে এলো ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়।
