মনির হোসেন
চট্টগ্রামে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. মনির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনায় ফুঁসতে থাকে নগরের বাকলিয়া এলাকা। অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে রাতভর বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চেয়ারম্যানঘাটা ও তুলাতুলি এলাকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যাওয়ার আগে মেয়েকে নানির বাসায় রেখে যান। দুপুরে বাসার সামনে খেলতে থাকা শিশুটিকে পাশের একটি ডেকোরেশনের গুদামে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কান্নাকাটি করতে করতে শিশুটি বাসায় ফিরে ঘটনাটি জানালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত মনিরকে আটক করেন।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। তবে তাকে থানায় নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। রাত ১১টা পর্যন্ত উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা
সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুর রশিদ জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি চরচাক্তাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন। পাশাপাশি ডেকোরেশনের কাজও করতেন বলে জানা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার সব ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায় বলেই মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন জনরোষ আরও ভয়াবহ হতে পারে।
