নিহতের স্বামীর আহাজারি
মায়ের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে, তার আরেক হৃদয়বিদারক উদাহরণ তৈরি হলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। দুই বছরের শিশু সন্তান চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়তেই এক মুহূর্ত দেরি করেননি মা।
সন্তানের জীবন বাঁচাতে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ছুটে চলাই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ দৌড়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারান তারিন (২৮) নামে এক তরুণী মা। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার দুই বছরের শিশু সন্তান। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবারের ছুটির দিনে স্বামী ও আদরের সন্তানকে নিয়ে ভাটিয়ারী গাল্ফ ক্লাব এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন তারিন। দিনভর পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়ে রাতে মোটরসাইকেলে করে নগরীর লালখান বাজার এলাকায় ফিরছিলেন তারা।
কিন্তু ফেরার পথেই নেমে আসে ভয়ংকর ট্র্যাজেডি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যায় দুই বছরের শিশুটি। মুহূর্তেই যেন বদলে যায় সবকিছু।
সন্তানের দিকে তাকিয়ে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি মা তারিন। ছুটে যান শিশুটিকে বাঁচাতে।
ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে পড়েন তিনি।
রাতের অন্ধকারে মহাসড়কের ওপর তখন ছড়িয়ে পড়ে স্বজন হারানোর কান্না আর আতঙ্ক। গুরুতর আহত শিশুটিও সড়কে পড়ে কাতরাচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা দ্রুত মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তারিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একটি পরিবারের আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মাতমে। আর সন্তানের জন্য মায়ের সেই শেষ ছুটে চলা রেখে গেল এক অনন্ত বেদনার গল্প।
