শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেন্টমার্টিনে পর্যটকের ঢল, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছেঁড়াদিয়ায়ও ভিড়

কক্সবাজার প্রতিনিধি
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১০ মাস পর কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে পর্যটক পরিবহনে সরকারি নির্দেশনা মানা, যাত্রী গণনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যান হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পর্যটকরা যাচ্ছেন ছেঁড়াদিয়ায়।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামে আরও দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। তিনটি জাহাজে এদিন ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে বিআইডব্লিউটিএর হিসাবে এ সংখ্যা ১ হাজার ৫৩০। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৪ জন।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাটে দায়িত্ব পালনকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জনী সমকালকে বলেন, ‘আমাদের হিসাবমতে, শুক্রবার ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড জাহাজে ওঠার সময় স্ক্যান না করায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পর্যটক গণনা করা কঠিন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যান করার জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল ও যাত্রী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকি কমিটির আহ্বায়ক কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার সমকালকে বলেন, সেন্টমার্টিনের বিষয়ে সরকারের একাধিক নির্দেশনা পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া তদারকি কমিটির বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।

বিশেষ তদারকি কমিটির বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তই বর্তমানে বহাল আছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বিষয়ে আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছি।’

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

যাতায়াত-নিষিদ্ধ এলাকায় পর্যটক

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন আট বর্গকিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দ্বীপটির দক্ষিণে রয়েছে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন আরেকটি দ্বীপ ছেঁড়াদিয়া। সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য সেখানে দিনে শত শত পর্যটক ঘুরতে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ছেঁড়াদিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকরা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের স্তূপে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।

দ্বীপে পর্যটকদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়– এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।

প্রাণচাঞ্চল্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে

দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাচ্ছেন পর্যটকরা। প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসে উচ্ছ্বসিত তামান্না রহমান। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসেছি। সেন্টমার্টিনের মতো সুন্দর একটি জায়গায় আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তার ওপর প্রথমবার দ্বীপে এসে ফুল উপহার পেয়ে আনন্দটা যেন আরও বেড়ে গেছে।

ফারাহ খানম নামে আরেকজন বলেন, ‘এখানকার নীল সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এই সুন্দর পরিবেশে অনেক ছবি তোলার ইচ্ছা আছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনে বেশি বেশি ছবি তুলব, যাতে এই সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে পারি।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কেফায়েত উল্লাহ জানান, পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, নির্বিঘ্নে দ্বীপে চলাফেরা করতে পারেন এবং যথাযথ সেবা পান, সে বিষয়ে তারা নজরদারি করছেন। পর্যটকরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।