বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হত্যা না আত্মহত্যা?—দৌলতপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ, ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার

এস এম বাদল
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নিস্তব্ধ রাত যেন হঠাৎ করেই রক্তাক্ত এক গল্পের সাক্ষী হয়ে উঠলো—যেখানে ভালোবাসার ঘর ভেঙে গেলো নিষ্ঠুরতার ছোঁয়ায়, আর এক নারীর জীবন থেমে গেলো রহস্যঘেরা মৃত্যুর অন্ধকারে।

গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা-এর রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত কাস্টম মোড় এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত গৃহবধূ মোছাঃ আইরিন নাহার বৈশাখী—যার জীবন ছিল দুই সন্তানের মায়ায় জড়ানো, সংসারের স্বপ্নে বাঁধা। কিন্তু সেই স্বপ্নই নাকি শেষ হয়ে যায় তার স্বামী মোঃ শ্যামল হোসেনের হাতে—এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আইরিনের ওপর চলছিল নির্যাতন। টাকা আনার চাপ, পরকীয়ার অভিযোগ, এমনকি মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া—এসবের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত নির্যাতনের ঝড়। একসময় মেয়ের সুখের আশায় জমি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলে দেন তার পরিবার। তবুও থামেনি অত্যাচার।

মায়ের চোখে তখনো ভাসে সেই শেষ ফোন কল— মা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে…কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আশঙ্কাই যেন হয়ে ওঠে নির্মম বাস্তবতা।

পরিবারের অভিযোগ, আইরিনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এমনকি স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলের দৃশ্যও আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। পরে এলাকাবাসীই লাশ নামিয়ে ফেলে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে আইরিনের ছোট সন্তানের মুখে—তার সরল বর্ণনায় যেন ফুটে ওঠে মায়ের শেষ মুহূর্তের ভয়াবহতা। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবাই ওড়না পেঁচিয়ে মায়ের গলা চেপে ধরে, এরপর তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয় আত্মহত্যা প্রমাণের উদ্দেশ্যে।

আইরিনের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা মামলা করেছি, কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চলছে। আমি আমার মেয়ের সঠিক বিচার চাই।

অন্যদিকে, মা রোকেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুরতহাল রিপোর্টে স্বাক্ষর নেওয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তাদের আকুতি—সঠিক তদন্ত হোক, সত্য প্রকাশ পাক, আর এক মায়ের আত্মা যেন শান্তি পায় ন্যায়বিচারের স্পর্শে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— একজন নারীর নিঃশব্দ মৃত্যু কি আবারও চাপা পড়ে যাবে প্রভাবের অন্ধকারে?
নাকি সত্য একদিন সাহস করে আলোয় এসে দাঁড়াবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে শুধু একটি পরিবার নয়—খুঁজছে পুরো সমাজ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।