সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য,ইলিয়াস আলী গুমের বর্ণনা দিলেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস, চাইলেন নিজের নিরাপত্তা

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
জুন ২১, ২০২৬ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইলিয়াস আলী

আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই একসময়কার বডিগার্ড বা রানার সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের বর্ণনা তুলে ধরেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রোববার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ সময় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ইমরুল কায়েস রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জবানবন্দিতে যা বললেন ইমরুল কায়েস

ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ, সাইফসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যাই। কে বা কাকে গাড়িতে তুলবে তা আমি জানতাম না। তবে গাড়িতে বসে জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন—টার্গেট কখন আসবেন। একপর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবেন না। পরে সেখান থেকে জিয়াউল আহসানকে বাসায় নামিয়ে দেই। পরদিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই। ছুটিতে থাকাকালে ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেওয়ার পর কর্মস্থলে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করি। সাধারণত সকাল ৯টায় রোল-কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর সকাল ৭টায় রোল-কল শুরু হয়। এভাবে বেশ কয়েকদিন সকালে আসতেন জিয়াউল আহসান।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউল আহসানের কাছে আরেকটি ফোন আসে। তখন তিনি বলেন, ‘তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ কথোপকথনের একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন বলে দাবি করেন সাক্ষী—আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।

ইমরুল কায়েস আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনার পর র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়। তিনি বলেন, আমি এক বছর তিন-চার মাস জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড বা রানার ছিলাম। সে সময় দেখেছি তিনি ১৫০ থেকে ২০০ মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছেন।

জবানবন্দির শেষদিকে তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিয়েছি। এখন আমি নিরাপত্তা চাই।

যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর অপহরণের ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে এবং এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত-বাংলাদেশজুড়ে ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ একজন সেনা কর্মকর্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তার জবানবন্দি এখনও চলমান রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত ‘জাফলং অপারেশন’-এর সময় র‌্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জাফলংয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভারত থেকে আসা কিছু সাদা পোশাকধারী ব্যক্তির মাধ্যমে আরও দুজনকে আনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া বিডিআরের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হত্যার অভিযোগও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তার দাবি, সাক্ষীর ভাষ্যমতে, এভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গাজীপুরে তিনজনকে হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটার চর দুয়ানিতে ৫০ জনকে হত্যা এবং বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।