প্রকল্প শেষ, বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা; উত্তরায় আরও ৬ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফাইল ফটো
রাজধানীর উত্তরায় স্বল্প ব্যয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হচ্ছে ‘নগর মাতৃসদন কেন্দ্র’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীন ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত এ কেন্দ্রে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।
উত্তরা সেক্টর-৬-এর ১১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত কেন্দ্রটিতে চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, প্যারামেডিকসহ প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে রয়েছে ২১টি শয্যা, দুটি কেবিন ও একটি অ্যাম্বুলেন্স। নারী ও শিশুদের সাধারণ ও জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা সেবার ব্যবস্থাও।
সম্প্রতি কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক ও নার্সদের আচরণে তারা সন্তুষ্ট। রোগীদের প্রতি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতামূলক আচরণের কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
কেন্দ্রটির পরিচালক (আরবান হেলথ) মোঃ হাবিবুর রহমান। সংশ্লিষ্টদের মতে, নগরবাসীকে স্বল্প ব্যয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই এ ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্প শেষ, বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে চললেও প্রতিষ্ঠানটির স্টাফদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৬ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় আর্থিক চাপের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্টাফদের দাবি, পাওনা পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে এবং বর্তমানে কর্মরত জনবলের ভবিষ্যৎ কী—এ বিষয়েও দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন তারা।
উত্তরায় আরও ছয় নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই কার্যক্রমের আওতায় উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আরও ছয়টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো—
১. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বাড়ি-১০০, রোড-১২, সেক্টর-১০, উত্তরা।
২. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বাড়ি-২/এফ, রোড-১০, সেক্টর-৪, উত্তরা।
৩. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বাড়ি-২৬০৩, দারোগার বাড়ি চৌরাস্তা, ফায়দাবাদ, উত্তরা।
৪. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বাড়ি-৪২৪, তেতুলতলা, আশকোনা, উত্তরা।
৫. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ক/১৩১/৪, কুড়িল কাজীবাড়ি, মসজিদ রোড, কুড়িল।
৬. নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বাড়ি-৩২৫, কলেজ রোড, আইনুস বাগ, দক্ষিণখান, উত্তরা।
প্রচার ও সম্প্রসারণের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এসব নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অনেক মানুষ এখনো এসব কেন্দ্রের অবস্থান, সেবার ধরন ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন।
সেবাগ্রহীতারা এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার, আধুনিকায়ন ও সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও স্বল্প ব্যয়ে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি রয়েছে।
তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা গেলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, অন্যদিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে চলমান সেবা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প-পরবর্তী অর্থায়ন, জনবলের ভবিষ্যৎ এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়েও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
