চারটি প্রধান মতপার্থক্য তুলে ধরে পদত্যাগের ঘোষণা, অভিযোগ—প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ থেকে সরে গেছে এনসিপি; নারীর অধিকার, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংস্কারের রাজনীতি নিয়েও নেতৃত্বের সমালোচনা।সামান্তা শারমিন। ফাইল ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, নির্বাচনী কৌশল, নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে নিজের অবস্থান ও দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত ‘সমতল মাতৃভূমি’কে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামান্তা শারমিন লিখেছেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো বিবেচনাতেই এনসিপির রাজনৈতিক মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে দলটিকে কঠিন রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন।
তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত প্রস্তাব, অভিযোগ, তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, দল ভুল পথে গেলে তা থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা রাজনৈতিক দায়িত্ব। সে কারণেই তিনি এনসিপির ভেতরে থেকেই মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
তবে দীর্ঘদিনের এই প্রচেষ্টার পরও দলের গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়ে নেতৃত্বের আগ্রহ না থাকায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সামান্তা শারমিনের ভাষায়, এনসিপির পক্ষে এখন আর দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক থাকা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, কোনো কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর ধাঁচ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে কঠোর অবস্থান
পদত্যাগের দীর্ঘ বিবৃতিতে প্রথমেই জামায়াতে ইসলামী সংস্কারের রাজনৈতিক মিত্র হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা শারমিন।
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনি সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার—এই তিনটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল।
তাঁর অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী এই তিনটি সংস্কারের কোনোটিকেই নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রপ্রকল্পের অংশ হিসেবে ধারণ করে না। তাঁর মতে, জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না; বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রয়োজন থেকেই সংস্কারের কথা বলে।
সামান্তা শারমিনের দাবি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শনের মৌলিক বিরোধ রয়েছে। ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা এবং সে বিষয়ে জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টিও তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি মনে করেন, এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছে, তখন দেশের উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের একটি অংশ দলটির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় দুর্বল হয়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দলটিকে জামায়াতের অবস্থানের অনুসারী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনী কৌশলে রাজনৈতিক সম্ভাবনা নষ্টের অভিযোগ
দ্বিতীয় মতপার্থক্যের জায়গা হিসেবে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও এনসিপির নির্বাচনী কৌশলকে সামনে এনেছেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন না হয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অতীতের ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব সময়ের আন্দোলন ও নির্বাচন শুধু ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন করেনি, বরং দেশের রাজনৈতিক গতিপথেও প্রভাব ফেলেছিল।
তাঁর অভিযোগ, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৬ সালের নির্বাচনকে অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সরিয়ে সাধারণ ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির সামনে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কিংবা এককভাবে নতুন রাজনৈতিক নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু দলটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাঁচটি বিকল্প পদ্ধতি তিনি দলের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু নেতৃত্ব সেসব প্রস্তাব গুরুত্ব দেয়নি।
শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে সামান্তা শারমিন বলেন, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ন্যূনতম পাঁচশ ভোটের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এককভাবে নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। অথচ পরবর্তী সময়ে বড় দলের সঙ্গে জোট করার কারণ হিসেবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের যুক্তি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা, বিজয়ের পর উপেক্ষার অভিযোগ
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিবৃতিতে সবচেয়ে বিস্তৃত আলোচনার একটি জায়গা দখল করেছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অধিকার।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু অংশগ্রহণকারী ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক, সম্মুখসারির যোদ্ধা ও রক্ষাকর্তা। ব্যারিকেডের সামনে তাঁদের সাহসী অবস্থান আন্দোলনকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছিল।
কিন্তু বিজয়ের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো নারীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ন্যায্য হিস্যা সংকুচিত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর মতে, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এসে এনসিপির সামনে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল। শুধু দলে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাংগঠনিক ক্ষমতা ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু এনসিপি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি। বরং দলটির বিভিন্ন অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন।
সামান্তা শারমিন প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনের সময় নারীদের সামনের সারিতে রাখা হলেও বিজয়ের পর তাঁদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কেন উপেক্ষিত হবে? আন্দোলনের সময় নারীর সাহস ও ত্যাগ গ্রহণ করা হলেও বিজয়ের পর তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ন্যায্য হিস্যা অস্বীকার করা হলে সেই অংশগ্রহণের প্রকৃত স্বীকৃতি কোথায়?
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো সমাজে নারীদের এগিয়ে নিতে ইতিবাচক বৈষম্য বা পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশন প্রয়োজন। ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য শুধু সমান সুযোগ নিশ্চিত করলেই চলবে না; বরং অধিক প্রতিনিধিত্ব, অধিক ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁর দাবি, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা মানে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কণ্ঠস্বরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা।
কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
চতুর্থ মতপার্থক্য হিসেবে এনসিপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও কাউন্সিল না করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে আলাদা।
পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, পদ-পদবি বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন। কাউন্সিল না হলে নেতৃত্বের বৈধতা, জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে সংশয় তৈরি হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্সিল আয়োজন না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন বা ‘রিস্ট্রাকচার’ করার মধ্য দিয়ে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর চর্চারই পুনরাবৃত্তি করেছে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভিন্নমত দমনের পুরোনো প্রবণতা ফিরে এসেছে।
তাঁর বক্তব্য, যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, সেই দলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিভাজনের বদলে ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামান্তা শারমিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক স্বপ্ন তৈরি করা, যেখানে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ একটি অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন।
তাঁর মতে, এনসিপির সামনে সেই সম্ভাবনা তৈরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব ও সিদ্ধান্তের কারণে সেই সম্ভাবনা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের অভিন্ন অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ করা।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভিত্তি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মিলিয়ে ফেলার রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করলে যেমন তার বিরোধিতা করতে হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো দেশের ক্ষেত্রে আপসহীনতা আর অন্য দেশের ক্ষেত্রে নীরবতা প্রকৃত বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি হতে পারে না।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠনের প্রত্যয়
নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ, জাতীয় পুঁজির বিকাশ, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন।
তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি না করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতি এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পথে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন শুধু নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চ্যালেঞ্জ নয়; বরং এমন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু বিভাজন রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হবে না।
পদত্যাগের বিবৃতির শেষাংশে সামান্তা শারমিন জানান, তিনি নতুন এই রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে আগ্রহীদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এনসিপি থেকে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সামান্তা শারমিনের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতাদর্শিক লড়াইয়ের অবসান ঘটলেও তাঁর বক্তব্যে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জোটনীতি, নারী নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক গণতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এসেছে। এখন এসব অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে এনসিপির নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সেটিই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
