বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংবাদ প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

বিশেষ প্রতিনিধি
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি-সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামত এবং বিভিন্ন অংশীজনের সুপারিশের ভিত্তিতে খসড়াটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং সাইবার স্পেস, গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে যাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

খসড়ায় মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ এবং কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো ও সেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও কথা হয়। জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় সংশোধিত খসড়াটি অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে সভায় উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপব্যবহারের শঙ্কা

নতুন খসড়া নিয়ে আগে থেকেই সাংবাদিক, সম্পাদক, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং কঠোর শাস্তির বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) খসড়ার কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানায়। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এসব অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে রাজনৈতিক সমালোচনা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও হয়রানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অতীতের অভিজ্ঞতাও নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিক ও নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ ও ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিসের যৌথ গবেষণায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২২২টি মামলায় ৩৯৬ জন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। সংবাদ প্রকাশ ও মতপ্রকাশের কারণে মামলা, গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার এসব অভিজ্ঞতা নতুন আইনেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

নতুন আইনের খসড়া নিয়ে সম্পাদক পরিষদও ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এতে সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদকে সাইবার অপরাধের আওতার বাইরে রাখা, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও ডিজিটাল তথ্য জব্দের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।