আব্দুল্লাহ আল জহির
রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির অভিযোগের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে। আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কর্মকর্তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে ক্ষিলক্ষেতে পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরদিন পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
আলোচনায় আসা এ অভিযানের পর ডিবি বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে জানায়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ এবং ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটকের তথ্যও দেয় ডিবি।
প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্তি এ ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে শনিবার বলা হয়, যার (অভিযান ও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর) ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এ কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়।
সাময়িক বরখাস্তকালীন ওই কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী এ সময়ে খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সেদিন বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এর ৫ দিনের মাথায় সাময়িক বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়।
