দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন সেতু/কালভার্ট প্রকল্পে কর্মরত অসহায় কর্মচারীদের স্বপ্নকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ।
চাকরি রাজস্বকরণের প্রলোভন দেখিয়ে সারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—মতিন সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার কার্যসহকারীদের নিয়ে একটি কথিত সমিতি গঠন করে নিজেই সভাপতি পদ দখল করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় সুপরিকল্পিত অর্থ আদায়ের খেলা। নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে তিনি নিজেকে “প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ” দাবি করে কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে ‘প্রশাসনিক তদবির’ ও ‘আদালতে মামলা পরিচালনা’র নাম করে প্রতিটি উপজেলা থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও চাকরি স্থায়ীকরণের কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই—বরং দিন দিন বাড়ছে হতাশা আর ক্ষোভ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান,
আমরা অল্প বেতনে প্রকল্পে কাজ করি। স্থায়ী চাকরির আশায় ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। মতিন বারবার আশ্বাস দিয়েছেন—উপরে সব সেট করা আছে। এখন বুঝতে পারছি, মামলার নামে তিনি শুধু আমাদের টাকা নিয়েছেন। আমাদের কাছে তার কথা বলার অডিও প্রমাণও আছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের দুর্বলতা ও অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়েই এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন মতিন। সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত থেকেও কীভাবে তিনি এত বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে সারা দেশে এমন অর্থ সংগ্রহের সিন্ডিকেট গড়ে তুললেন?
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, নাকি অদৃশ্য কোনো ছত্রছায়া কাজ করছে?
তবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ ফেরত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মতিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেল—অসহায় কর্মচারীদের স্বপ্ন কি তবে প্রতারণার আগুনেই পুড়বে, নাকি এবার উন্মোচিত হবে এই ‘কোটি টাকার সিন্ডিকেটের’ আসল মুখ?
উল্লেখ্য যে,এ প্রতারক ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের লাগাম টেনে ধরার উপযুক্ত সময়। অন্যথায় নিঃস্ব হয়ে পরে নামবে শতাধিক পরিবার। এমনটাই ভাবছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
