নোটিশ, মোবাইল কোর্ট ও নকশা—অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থ লেনদেন; জোন-৬-এর রেশ না কাটতেই জোন-৪ নিয়ে নতুন প্রশ্ন। ফাইল ছবি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়াকে ঘিরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, দালাল এবং নিজস্ব অর্থায়নে নিয়োগ দেওয়া একাধিক সহকারীকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের প্রভাব জোন-৪-এর বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নকশা অনুমোদন, ছাড়পত্র, নোটিশ, ভবন নির্মাণের অনিয়ম এবং মোবাইল কোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেই অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সোহাগ মিয়া ও তার কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার আশীর্বাদে সোহাগ মিয়ার তৎপরতায় গুলশান এভিনিউ রোডের পূর্ব পাশ, প্রগতি সরণির পূর্ব পাশ, বাড্ডা আনন্দনগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আদর্শ নগরসহ জোন-৪-এর বেশ কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সিন্ডিকেটের চাহিদামতো অর্থ পরিশোধ করা হলে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বা ডেভেলপাররা অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করে প্রতি তলায় অতিরিক্ত বর্গফুট বাড়িয়ে নির্মাণের সুযোগ পান বলে অভিযোগ।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এভাবে নকশার বাইরে ভবনের আয়তন ও কাঠামোগত পরিবর্তন ভবনের ভারসাম্য নষ্ট করে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
টাকা দিলে নোটিশ ‘গায়েব’, না দিলে মোবাইল কোর্ট?
অভিযোগ রয়েছে, চাহিদামতো অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভবন মালিকদের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। কখনো আবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অর্থের সমঝোতা হয়ে গেলে সেই নোটিশ আর কার্যকর থাকে না—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নোটিশ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত অর্থ আদায় না হলে পরিচালক জাকারিয়ার সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভবনের অনিয়মিত অংশ আংশিক ভেঙে দেওয়া এবং বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
নিয়ম অনুযায়ী, ভবন মালিক বা ডেভেলপারের কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ থাকে, ভবনের অনিয়মিত অংশ মালিক বা ডেভেলপার নিজ খরচে ভেঙে ফেলবেন।
কিন্তু অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো—অর্থ আদায়ের পর সরকারি ব্যয়ে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের পুরো কার্যক্রমই কার্যত নিষ্ফল হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আশপাশের ভবন অথবা জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে ভেঙে ফেলা অংশে ফের জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ফলে একদিকে সরকারি অর্থে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট, অন্যদিকে ভবন মালিকের কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প—দুটিই কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিন লাখ টাকায় ‘রফাদফা’র অভিযোগ
সম্প্রতি উত্তর বাড্ডার সাঈদ নগর সি ব্লকের একটি ভবনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তিন লাখ টাকায় রফাদফা করে সোহাগ মিয়া পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে ওই ভবনে আবারও নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ করে দেন।
বিষয়টি সোহাগ মিয়ার নজরে আনা হলে তিনি প্রথমে জানান, পরদিন বিষয়টি দেখবেন। একদিন পর আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘লাইন কেটে দিয়েছি, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন।
তবে পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও নির্মাণকাজ—দুটিই চলমান থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে সোহাগ মিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে আসে।
ভবনটির একাংশের মালিক শামিমের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি দাবি করেন, সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তিন লাখ টাকায় রফাদফা করে তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানের স্বার্থে সাঈদ নগরের ওই ভবনে নির্মাণকাজের সুযোগ দিতে তিন লাখ টাকা এবং নকশা দিতে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মিয়ার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
‘আমার মৌখিকই লিখিত’—সোহাগের বক্তব্য
সাঈদ নগরে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুতের লাইন এনে নির্মাণকাজ চালানোর বিষয়ে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সোহাগ মিয়া জানান, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আমার মৌখিকই লিখিত।’
এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত একটি ভবনে পুনরায় নির্মাণকাজ চলার মতো বিষয় যদি লিখিতভাবে নথিভুক্ত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দায় নির্ধারণ করা হবে কীভাবে?
১৫ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডেভেলপার কোম্পানির এক ম্যানেজার অভিযোগ করেন, তাদের কোম্পানি একটি নকশার জন্য রাজউকে আবেদন করার পর সোহাগ মিয়া বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন।
কখনো এক সমস্যা, আবার পরদিন অন্য সমস্যা দেখিয়ে মাসের পর মাস তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই ম্যানেজার। একপর্যায়ে জায়গাটিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে দেখিয়ে ফাইল স্থগিত রাখা হয়।
ওই ম্যানেজারের দাবি, শেষ পর্যন্ত সমস্যা মেটাতে সোহাগ মিয়াকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগটির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সোহাগ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
‘ক্ষমতার দাপটে’ মুখ খুলতে ভয়?
সোহাগ মিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বিভিন্ন ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির মালিকদের অভিযোগ, তার ক্ষমতার দাপট এতটাই বেশি যে তিনি চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যেকোনো ভবনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উচ্ছেদ করতে পারেন।
ফলে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস অনেকের নেই বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
রাজউক জোন-৪-এর একাধিক সূত্রের দাবি, যারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের তুলনামূলকভাবে ছোট এলাকা দেওয়া হলেও সোহাগ মিয়ার মতো কিছু পরিদর্শককে বড় এলাকা দেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলোর অভিযোগ, এসব এলাকায় অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যেও বণ্টন করা হয়।
তবে এসব অর্থ বণ্টনের অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি এ প্রতিবেদনের হাতে আসেনি।
জোন-৪ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন
সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার অধীনে সোহাগ মিয়ার মতো আরও কয়েকজন ইমারত পরিদর্শক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে পুরো জোন-৪-কে বাণিজ্যের এলাকায় পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আংশিক ভেঙে দেওয়া ভবনগুলোর বেশিরভাগই পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে জোড়াতালি দিয়ে পুনরায় নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছে বলেও সূত্রগুলোর দাবি।
যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরও একই ভবনে কীভাবে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়? ভাঙা অংশ পুনর্নির্মাণের বিষয়টি কার নজরদারিতে থাকার কথা? আর সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের পরবর্তী তদারকি কোথায়?
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য কেন দেওয়া হয়নি?
অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো, জোন-৪-এর বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবনের তথ্য চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, যেসব ভবনে নোটিশ দেওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে নোটিশ গায়েব করা হয়েছে এবং যেসব ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আংশিক ভেঙে ফেলার পর পুনরায় জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এমন একাধিক ভবনের তথ্য চেয়ে আবেদন করা হলেও পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়া তথ্য অধিকার আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তথ্য দেননি।
এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের জবাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা নকশাবহির্ভূত ভবনের তথ্য গোপন করা হলে তা জননিরাপত্তা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য মারাত্মক বিষয়। কোন ভবন ত্রুটিপূর্ণ তা না জানলে সাধারণ মানুষ না বুঝেই সেখানে বসবাস বা ব্যবসা করতে পারেন, যা সরাসরি জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিচালকের বক্তব্যও ঘিরে প্রশ্ন
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবন আংশিক ভেঙে ফেলার পর পুনরায় জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগের দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়া বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান।
পরবর্তীতে জোড়াতালি দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা একাধিক ভবনের ঠিকানা তার মোবাইলে পাঠিয়ে আবারও যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
বিভাগীয় কার্যধারার দাবিও
এদিকে সালেহ আহমেদ জাকারিয়া, সোহাগ মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় কার্যধারা রুজুর দাবি জানিয়ে আপিল আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইতোমধ্যে কয়েক মাসের মোবাইল কোর্টের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য হাতে পাওয়া গেলে সালেহ আহমেদ জাকারিয়া, সোহাগ মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা দায়িত্বে অবহেলা, নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা এবং মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এখনই জরুরি
সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ভবন নির্মাণে অনিয়মের সুযোগ দেওয়া এবং নোটিশ বা মোবাইল কোর্টকে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। একইভাবে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তাই অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মোবাইল কোর্টের রেকর্ড, ভবনের নকশা ও অনুমোদনপত্র, তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া তথ্য এবং বিভাগীয় কার্যধারার নথি যাচাই করা জরুরি।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবন নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত। ফলে নকশাবহির্ভূত বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের পর পুনরায় নির্মাণের সুযোগ, নোটিশ প্রত্যাহারের অভিযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য গোপনের অভিযোগ—সবকিছুই যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে।
প্রশ্ন এখন একটাই—রাজউকের মোবাইল কোর্ট যদি অনিয়ম ঠেকাতেই পরিচালিত হয়, তাহলে অভিযান শেষে একই ভবনে আবারও নির্মাণকাজ চলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কীভাবে? আর এর পেছনে যদি সত্যিই কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে, সেই সিন্ডিকেটের পরিধি কতদূর?
