প্রতীকী ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিত্যক্ত একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর এলাকার মনকুটা গ্রাম থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়—যেন সন্ধ্যার অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া দুই নিষ্পাপ জীবনের শেষ খোঁজ মিলল নিস্তব্ধ জলের বুকে।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলো মাহিনুর বেগম (৭) ও চাদনী আক্তার (৮)। মাহিনুর বেগম রতনপুর ফাজিলিয়া দাখিল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মনকুটা গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার মেয়ে। অন্যদিকে চাদনী আক্তার রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই গ্রামের ছাসতু মিয়ার মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে মাহিনুর ও চাদনী বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উৎকণ্ঠা। শুরু হয় চারদিকে খোঁজাখুঁজি—পথে পথে, বাড়ি বাড়ি। কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে নাকি ‘জ্বীনে নিয়ে গেছে’।
অবশেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা রতনপুর ফাজিলিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় দুটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে ছুটে যান স্বজনরা—নিস্তব্ধ পানির বুক চিরে তুলে আনেন তাদের আদরের সন্তানদের নিথর দেহ।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে দুই শিশুকে পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়—একই মাটির নিচে ঘুমিয়ে পড়ল দুই বন্ধুত্ব, দুই স্বপ্ন, দুই শৈশব।
মাহিনুরের মা ইয়াছমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার মেয়ে সাঁতার জানত না। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। রাতে তার লাশ ডোবায় পাই।
চাদনীর বাবা ছাসতু মিয়া বলেন, মেয়েকে বাড়িতে রেখে বাজারে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, সে নেই। পরে রাতে ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।”
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল রহমান জানান, দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা অভিযোগ আসেনি।
নির্জন ডোবার কালো জলে ডুবে গেল দুই শিশুর হাসি—পিছনে ফেলে গেল শোক, প্রশ্ন আর এক নিঃশব্দ হাহাকার।
