মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পটুয়াখালীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন: দুগ্ধ উৎপাদনে নারীর অবদানকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
জুন ১, ২০২৬ ৬:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

“দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারী, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা”—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে পটুয়াখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে সোমবার (১ জুন) বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দুগ্ধ খামারিরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের প্রশিক্ষণ কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদর ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ শেখ আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. হাবিবুর রহমান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দশমিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শুভেন্দু সরকার। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের তাৎপর্য, দুধের পুষ্টিগুণ, আধুনিক দুগ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও বক্তব্য দেন কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ান মো. মনির এবং ল্যাবরেটরিস লিমিটেডের প্রতিনিধি বখতিয়ার আহমেদ।

বক্তারা বলেন, দুধ শুধু একটি আদর্শ খাদ্যই নয়, জাতীয় অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তারা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরতা ছাড়াই পটুয়াখালী জেলা কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে। জেলায় বর্তমানে যে পরিমাণ গবাদিপশু রয়েছে, তা দিয়ে অতিরিক্ত আরও একটি কোরবানির মৌসুমের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নারী খামারিদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটির আয়োজন দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি সচেতনতা এবং নারী খামারিদের ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।