সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই দিনে তুরাগ নদে মিলল তিন লাশ: নিখোঁজ দুই তরুণের মরদেহ উদ্ধার, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াল নানা গুঞ্জন

স্টাফ রিপোর্টার
জুন ২৮, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. সুমন (১৮)

রাজধানীর তুরাগের রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (১৮) ও আরিফ হাসান রাকিব (২০)—দুজনই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিনের ব্যবধানে তুরাগ নদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে দিয়াবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে আরও এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হওয়ায় দুই দিনে তুরাগ নদ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার আশুলিয়া থানার পুলিশ তুরাগ নদ থেকে সুমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবার জানায়, গত ২২ জুন তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরে নদীতে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি সুমনের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। জীবদ্দশায় সুমন কামারপাড়া আড়তে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

এর আগে বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় তার চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

এদিকে একই দিন দিয়াবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে রনি মোল্লা (৩৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তুরাগ নদ ও আশপাশের এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা জানান, তাদের বাড়ি মনিপুরের মোল্লাপাড়া এলাকায়। রনি দিয়াবাড়ীর একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাসায় ফেরার পথে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দিয়াবাড়ী ঘাটে গোসলে নেমেছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। রনির মৃত্যুর ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সুমনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘সুমন আহমেদ চৌধুরী’ নামে তার একটি ফেসবুক আইডি রয়েছে। ছয় দিন আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার ভিডিও সেখানে আপলোড করা হয়েছিল। শনিবার রাতে আইডিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমসংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে।

সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে দাবি করা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তুরাগ থানা এলাকায় বের হওয়া একটি মিছিলের পর বিএনপির নেতাকর্মী ও আশুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয়েছে।

তবে এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরাগ নদে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে—এমন শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও অপপ্রচার। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ২৫ জুন দিবাগত রাতে আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি সুমনের বলে শনাক্ত করেন।

অন্যদিকে, দারুস সালাম থানা সূত্র জানায়, বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তিনি তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় তার চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।

আরিফের চাচা জানান, ২২ জুন সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর বিকেলে মায়ের সঙ্গে মোবাইলে শেষবার কথা হয়েছিল আরিফের। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে বুধবার তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।