রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতির উৎস খুঁজবে কবে প্রশাসন? মাদক দমনের নামে ‘মাসোয়ারা সিন্ডিকেট’—ময়মনসিংহ ডিএনসি ঘিরে অভিযোগ, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের দাবি

মামুনুর রশীদ মামুন
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৫:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের কাঁধে, সেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ময়মনসিংহ কার্যালয় ঘিরেই এবার উঠেছে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র মাসোয়ারা বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, অডিও রেকর্ড এবং বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়ায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন।

প্রশ্ন উঠেছে—এত অভিযোগ, এত তথ্য-উপাত্ত ও জনমতের চাপ থাকার পরও কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত হচ্ছে না? কেন বছরের পর বছর একই কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? দুর্নীতির শেকড় কি এতটাই গভীরে পৌঁছে গেছে যে তা স্পর্শ করার সাহসও দেখাতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়মনসিংহ, হালুয়াঘাট, গৌরীপুর, নান্দাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক স্পট ও অবৈধ মদের আখড়া দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এসবের পেছনে ডিএনসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। আলোচিত অডিও রেকর্ডে এএসআই আমেনা বেগমের কথোপকথন এবং হিসাবরক্ষক এম এ কবিরের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগকে স্থানীয়রা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দেখছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করা হয়। বিনিময়ে নির্দিষ্ট এলাকাকে দেওয়া হয় নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, যারা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করেন বা তথ্য প্রকাশে সহযোগিতা করেন, তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সাজানো মামলার অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযুক্তদের একটি অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় স্থানীয়ভাবে কোনো তদন্তই কার্যকরভাবে এগোতে পারে না। ফলে গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অধিকাংশ অভিযোগ শেষ পর্যন্ত ফাইলবন্দি হয়েই থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যখন একটি মাদকবিরোধী সংস্থার বিরুদ্ধেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তখন রাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযান ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে। মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও যদি তাদের আশ্রয়দাতারা আইনের বাইরে থেকে যান, তবে মাদক নির্মূলের লড়াই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর নীরবতাও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। নিয়োগ, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ বারবার সামনে এলেও কেন দৃশ্যমান তদন্ত নেই—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষেরও। জনগণ জানতে চায়, আইনের শাসনের চেয়ে কি কোনো অদৃশ্য শক্তি বেশি প্রভাবশালী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খুচরা মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদক ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা প্রশাসনিক ও আর্থিক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আনলে মাদকবিরোধী অভিযান কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই থাকবে।

এ অবস্থায় সচেতন মহল ময়মনসিংহ ডিএনসিকে ঘিরে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

এখন প্রশ্ন একটাই—ময়মনসিংহের এই আলোচিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে, নাকি তদন্তহীনতার সংস্কৃতির আড়ালেই চাপা পড়ে যাবে সব অভিযোগ? রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।